মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দেশের শিল্পের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে বিভিন্ন স্তরে কৌশল তৈরি করছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রফতানিকারকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই কঠিন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। তিনি জানান, রফতানিকারকদের উদ্বেগ দূর করাই কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্রাধিকার। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (FIEO)-এর সভাপতি এসসি রালহানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে মার্কিন শুল্কের আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে আলোচনা করেন। রালহান বলেন, “উচ্চ শুল্ক সরাসরি বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রতিযোগিতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর প্রভাব ফেলছে।” FIEO-এর সভাপতি সরকারের কাছ থেকে অবিলম্বে এবং পরিকল্পিত নীতিগত পদক্ষেপের দাবি জানান।ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (FIEO)-এর জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার রফতানিকারকদের সকল সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেছেন, সরকার রফতানিকারক সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ করবে। বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রফতানি শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের প্রতি আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার গতি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার রফতানিকারকদের ব্যাপক সহায়তা প্রদান করবে। প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চড়া শুল্ক আরোপ করেছে। এর ফলে বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া এই মার্কিন শুল্কের প্রভাব মার্কিন বাজারে চিংড়ি, রেডিমেড পোশাক, হিরে, চামড়া, জুতো এবং রত্ন ও অলঙ্কারের মতো শ্রমঘন ক্ষেত্রের উপর সবচেয়ে বেশি ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই খাতে রফতানি এবং কর্মসংস্থান উভয়ের উপরই চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ আমেরিকার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি স্লথ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, এই চড়া শুল্কের ফলে আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেলে তা মার্কিন জিডিপিকেও বড় ধাক্কা দিতে পারে। এসবিআই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। তবে এই হার তার চেয়ে অনেক বেশি হতে চলেছে। এর মূল কারণ শুল্কের প্রভাব বলে জানা গিয়েছে।

