১৬ বছর ধরে ক্ষমতার অলিন্দে থাকলেও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যে কোনোভাবেই ‘আত্মতুষ্টি’তে ভুগতে রাজি নয়, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকায় তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারবার দেওয়া ‘পারফরম্যান্স কার্ড’ তত্ত্বই এবার প্রার্থী নির্বাচনের মূল মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে । যার জেরে ২৯১ জনের তালিকায় বাদ পড়েছেন বর্তমান বিধানসভার ৭৪ জন বিধায়ক। সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে মন্ত্রিদের নাম বাদ পড়ায়। বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোত্ৎস্না মাণ্ডি এবং শিবপুরের বিধায়ক তথা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি এবার টিকিট পাননি। টিকিট পাননি হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী তজমুল হোসেনও নিছক পরিচিতি বা ‘গ্ল্যামার’ নয়, বরং গত ৫ বছরের কাজের খতিয়ান দেখেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কালীঘাট। বাদ পড়েছেন উত্তরপাড়ার তারকা বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকও, যাঁর পারফরম্যান্স ও ব্যক্তিগত বিতর্ক দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছিল।দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জীবনকৃষ্ণ সাহা ও মানিক ভট্টাচার্যকে প্রত্যাশিতভাবেই ছেঁটে ফেলেছে দল। তবে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ক্ষেত্রে। জেলবন্দি থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে হাবড়া থেকে তাঁকেই প্রার্থী করা হয়েছে।বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে পরেশ পাল অব্যাহতি চাওয়ায় বেলেঘাটা কেন্দ্রে বড় চমক দিয়েছেন দলনেত্রী। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে দলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষকে। অন্যদিকে, বীরবাহা হাঁসদা (বিনপুর), সোহম চক্রবর্তী (করিমপুর), নির্মল মাজি (গোঘাট) এবং বিদেশ বসুর (সপ্তগ্রাম) মতো অন্তত ১৫ জন বিধায়কের আসন বদল করে তাঁদের নতুন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।মালদহের দুই স্তম্ভ কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী ও সাবিত্রী মিত্রের দীর্ঘদিনের অন্তর্কন্দল মেটাতে কঠোর হয়েছে দল। দুজনেই এবার বাতিলের তালিকায়। টিকিট পাননি হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী তজমুল হোসেনও। বাদ পড়েছেন স্বর্ণকমল সাহা এবং বিবেক গুপ্তার মতো পুরনো সৈনিকরাও। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বস্ত করেছেন, “যাঁরা প্রার্থী হতে পারলেন না, তাঁদের অভিজ্ঞতার অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে।”