মঙ্গলবার কালীঘাটের বাসভবন সংলগ্ন পার্টি অফিস থেকে ২৯৪ জন প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (এর মধ্যে দার্জিলিংয়ের তিনটে সিট অনিত থাপার দলকে ছেড়েছে তৃণমূল) ৷ শুরুতে কয়েকটি নাম পড়ে শোনান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ৷ বাকি কেন্দ্রগুলির প্রার্থীদের নাম পড়ে শোনান দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সোমবার বিজেপি ১৪৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিয়েছে ৷ তাৎপর্যপূর্ণভাবে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি ৷ তারপর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছিল ৷ গতবারে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী ৷ যদিও ওই ফলাফল নিয়ে কোর্টে মামলাও গড়ায় ৷ বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন ৷ এহেন আবহে এবারে ফের মমতা-শুভেন্দুর মুখোমুখি লড়াই হবে ভবানীপুরে ৷ ভবানীপুর থেকে প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আর নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে একদা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পবিত্র করকে ৷দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, বয়স, পারফরম্যান্সের নিরিখে এবারে একাধিক বিধায়ক, মন্ত্রীর নাম কাটা পড়তে পারে ৷ বাস্তবে হলও তাই ৷ একইভাবে অন্যান্যবারের মতো এবারও প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই হয়েছে সমাজের একাধিক বিশিষ্টজনের ৷এদিন প্রার্থিতালিকা প্রকাশের আগে সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “২০২৬ এর ভোটে আমরা ২২৬ এর বেশি ভোটে জিতব, এটা আমার ধারণা ৷ আর ভোটের পর বিজেপি দেখবে সর্ষেফুল !”পদ্মশিবিরকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপিকে বলব ভয় পাচ্ছেন কেন ? এজেন্সিকে না লেলিয়ে ক্ষমতা থাকলে গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করুন !” এরপরই নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির কমিশন’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” ব্রিলিযান্ট খেলা খেলছেন, ডিজি থেকে এসপি, সব চেঞ্জ করে দিলেন ৷ বিজেপির কথায় মেঘের আড়াল থেকে কেন খেলছেন ? দরকারে প্রচারে নামুন ! সব নিয়ম যখন ভঙ্গ করছেন তখন মঞ্চ করে মিটিংও করুন ! প্রয়োজনে ভোটেও দাঁড়ান না! হাসিমুখে বলছি, আপনারা যতই চক্রান্ত করুন বিজেপির তো বাংলায় কোনও সম্ভাবনাই নেই ৷ আগের চেয়েও ওদের আসন সংখ্যা কমবে ৷ তৃণমূল জিতলে বাংলা জিতবে ৷” মমতা এও বলেন, ” দিল্লি কা লাড্ডুরা আমাদের কাছ থেকে সব পাওয়ার কেড়ে নিয়েছেন ৷ তবে একটা পাওয়ার আমাদের হাতে রয়েছে ৷ মনে রাখবেন, ম্যান পাওয়ার ৷ মানুষই শেষ কথা বলে ৷”বিজেপিকে ‘বসন্তের কোকিল’ বলেও কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রাজ্যে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা ৷ তাঁর কথায়, “কয়েক লাখ সেন্ট্রাল ফোর্সকে খাওয়াবে কে ? স্কুলগুলোর কী হবে ? গ্যাস কোথা থেকে আসবে ? আসলে এদেরকে দিয়ে অর্থ, অস্ত্র সরবরাহ করবে বলে এনেছে ৷” হুঁশিয়ারির সুরে এও বলেন, “বাইরে থেকে লোক ঢুকিয়ে বাংলায় অশান্তির চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত করা হবে না ৷” মোদিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা এও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানুষে আস্থা থাকলে বাংলাকে এত আঘাত করছেন কেন ? মনে রাখবেন, ভোটে মানুষ এর প্রত্যাঘাত করবে !” এদিন সাংবাদিক বৈঠক শেষে অভিষেক বলেন, ২৯৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫২ জন মহিলা, এসসি এসটিদের মধ্যে থেকে ৯৫ জনকে প্রার্থী করা হয়েছে ৷ এদিন প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “এবারে অনেকে টিকিট পেলেন না ৷ আবার অনেক নতুন মুখ জায়গা পেলেন ৷ তবে যাঁরা টিকিট পেলেন না, তাঁদের দল অন্য কাজে লাগাবে ৷”

রবিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ঘোষণা করেছে কমিশন ৷ ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট হবে রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রে ৷ ফলাফল ৪ মে ৷