একটি বুথ থেকে বিচারাধীন তালিকায় নাম থাকা সকল ভোটারের নাম বাদ পড়ল৷ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর 24 পরগনার বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে৷ বিচারাধীনদের তালিকায় ছিল স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র নামও৷ স্বাভাবিকভাবে ওই বিএলও-র নামও বাদ গিয়েছে৷ এখন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প রইল না সংশ্লিষ্ট বুথের ওই ভোটারদের কাছে৷ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল গত 28 ফেব্রুয়ারি৷ সেই সময় নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রায় 60 লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল৷ বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ নম্বর পাঁচে এমন বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল 340 জন৷ সোমবার মধ্যরাতে বিচারাধীন ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন৷ সেই তালিকা অনুযায়ী বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ নম্বর পাঁচে থাকা 340 জন বিচারাধীন ভোটারের নামই বাদ গিয়েছে৷ স্থানীয় ভোটার তথা বিএলও মহম্মদ সফিউল আলমের নামও বিচারাধীন তালিকায় ছিল৷ ফলে সোমবারের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা অনুযায়ী তাঁর নামও বাদ গিয়েছে৷ সঙ্গে তাঁর তিন ভাইয়ের নামও বাদ গিয়েছে৷ বিচারাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন৷ আগামী 15 দিনের মধ্যে এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে বাদ পড়া ভোটারদের৷ মহম্মদ সফিউল আলম জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে অ্যাপলেট ট্রাইবুনালে আবেদন জানাবেন। একই বুথের সব বিচারাধীন ভোটারের নামই বাদ গেল? এটা কীভাবে সম্ভব? এই নিয়ে মঙ্গলবার প্রশ্ন করা হয় বিধানসভা ভোটে রাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে৷ তিনি জানান, যাঁরা এডজুডিকেশন করেছেন অর্থাৎ জুডিশিয়াল অফিসারদের এই বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে হবে৷ কারণ এই বিষয়ে কমিশন কিছু উত্তর দিতে পারবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে একটি বুথেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে রাজ্যের অবস্থা কী? তাহলে রাজ্যের বিচারাধীন ভোটারের নামই কি বাদ যাওয়ার পথে৷ এই বিষয়টি নিয়েও নির্বাচন কমিশন কার্যত অন্ধকারে৷ সোমবার যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে, সেই অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত 30 লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা গিয়েছে বলে এদিন জানিয়েছেন সুব্রত গুপ্ত৷ কিন্তু এই 30 লক্ষের মধ্যে কতজন ভোটারের নাম বাদ পড়ল, সেই বিষয়টি নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি৷ সুব্রত গুপ্ত জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় 30 লক্ষ বিচারাধীনের নাম নিষ্পত্তি হলেও ঠিক কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, সেই তথ্য কমিশনের কাছে নেই। যেহেতু পুরো বিষয়টি আদালতের তথ্যাবধানে হচ্ছে, তাই আদালতই বলতে পারবে যে কতজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিযোগ উঠছে যে মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ পাওয়ায় মানুষের সমস্যা হয়েছে৷ এই বিষয়ে তিনি জানান যে সময়টা ব্যাপার নয়, দেখতে হবে যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা কমিশনের কাছে ই-সাইন করে যে রোল পাঠিয়েছেন, কমিশন সেটাই প্রকাশ করেছে। যিনি জানতে চান যে নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তিনি ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল থেকে নিজের নাম দেখতে পারবেন। যে বুথের যে পার্ট-এর কাজ শেষ হয়েছে, সেটাই দেখা যাবে।

