লখনউ সুপার জায়ান্টের 2.60 কোটির অখ্যাত ক্রিকেটারকে রাতারাতি পাদপ্রদীপের আলোয় এনে দিল লক্ষ্মীবারের নন্দনকানন ৷ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়র লিগের মহামঞ্চে তৃতীয় আবির্ভাবে যিনি মুখের গ্রাস কাড়লেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ৷ মুকুলের 27 বলে অবিশ্বাস্য 54* রানের ইনিংসে শেষ বলে তিন উইকেটে রোমাঞ্চক জয় ছিনিয়ে নিল লখনউ সুপার জায়ান্টস ৷ 182 রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে এদিন 14.4 ওভারে 127 রানে ছয় উইকেট হারায় লখনউ ৷ 54 রানে আয়ুষ বাদোনিকে ফিরিয়ে তখন প্রথম জয়ের প্রহর গুনছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা ৷ নিঃশব্দে বাইশ গজে নামেন মুকুল চৌধুরি ৷ অনুকূল, নারিনদের সামলে প্রথম আট বলে মাত্র দু’রান সংগ্রহ করেন তিনি ৷ শেষ 22 বলে যখন লখনউয়ের 54 রান বাকি, তখন ধামাকা শুরু করেন আইপিএলের নয়া তারা ৷ 17তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে বৈভব অরোরাকে একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে প্রাথমিকভাবে নজর কাড়েন ৷ আর যখন মাঠ ছাড়লেন তখন মুকুলে কেকেআরের ‘বিনাশ’ ঘটে গিয়েছে ৷ দু’টি চার ও সাতটি বিশাল ছক্কায় 27 বলে 54 রান করে নাইটদের একাই হারিয়ে দিলেন মুকুল ৷ এছাড়া এলএসজি’র হয়ে উল্লেখযোগ্য রান বাদোনির ৷ তার 34 বলের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও জোড়া ছক্কা ৷ বিপক্ষের দুই ওপেনার মিচেল মার্শ ও এইডেন মার্করামকে ফিরিয়ে লখনউ শিবিরকে একই ওভারে জোড়া ধাক্কা দেওয়া বৈভবের কাঁধে ছিল শেষ ওভারের দায়িত্ব ৷ লখনউয়ের প্রয়োজন ছিল 14 রান ৷ জোড়া ছক্কা হাঁকানোর পর শেষ বলে সিঙ্গল নিয়ে দলকে জেতান মুকুল ৷ ইডেনের গ্যালারিতে তখন স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ৷ কারণ, চার ম্যাচ হয়ে গেলেও প্রথম জয় যে এখনও অধরা আজিঙ্কা রাহানেদের ৷ ম্যাচ শেষে নাইট অধিনায়ক যেমন জানিয়ে গেলেন, একটা ইনিংসই ফারাক গড়ে দিল ৷ এদিন জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে বোলিং করলেন নাইটদের 25.20 কোটির অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ৷ দ্বিতীয় বলে শর্টপিচ ডেলিভারিতে ফেরালেন লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্তকে (10) ৷ কিন্তু সেসবের আর মূল্য রইল কই ? টস হেরে ইডেনে এদিন প্রথম ব্যাটিং করে নাইটরা ৷ 24 বলে 32 রান করে ব্যাট হাতেও মূল্যবান অবদান রাখেন গ্রিন ৷ অবিভক্ত পঞ্চম উইকেটে রোভমান পাওয়েলের সঙ্গে তাঁর 70 রানের জুটিই নাইটদের চার উইকেট হারিয়ে পৌঁছে দেয় 181-তে ৷ পাওয়েল করেন 24 বলে অপরাজিত 39 ৷ অধিনায়ক রাহানের ব্যাট থেকে আসে 24 বলে ঝোড়ো 41 রান ৷ পাঁচটি চার ও দু’টি ছক্কায় 33 বলে 45 করেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ৷ কিন্তু ব্যাটারদের সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টা মূল্যহীন হয়ে পড়ল ম্যাচ সেরা মুকুলের অবিশ্বাস্য ইনিংসে ৷ তিন ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ে পাঁচে উঠে এলেন পন্তরা ৷ অন্যদিকে চার ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে ন’য়ে কেকেআর ৷

