সোমবার, সুপ্রিম কোর্টে ছিল এসআইআর মামলার শুনানি। সেখানেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন৷ নাম বাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। বিহারে এসআইআর-র সময় নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, ২০০২-র ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে তাঁদের কোনও নথি জমা দিতে হবে না৷ তাহলে ২০০২-র তালিকায় নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নাম থাকলেও কেন ভোটারদের নাম কাটা যাচ্ছে বা তাঁদের নথি জমা দিতে হচ্ছে কেন, প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ৷ এই নিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কমিশন আগের বক্তব্য থেকে সরে আসছে বলেও এদিন জানান বিচারপতি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘বিহারের এসআইআর-র সময় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ২০০২ সালের তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে তাঁদের কোনও নথি জমা দিতে হবে না৷ ২০০২-র তালিকাই ছিল মানদণ্ড৷ আপনাদের মূল এসআইআর বিজ্ঞপ্তিতেও ২০০২ সালের তালিকার কথা বলা ছিল না৷ কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির তালিকায় নাম থাকার কারণ হিসেবে ২০০২-এর তালিকার কথা বলা হয়েছে৷’’ কমিশনের আইনজীবী জানান, তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা ২০০২ তালিকার একই ব্যক্তি। কমিশনের আইনজীবীর জবাব শুনে বিচারপতি বাগচি বলেন, ‘‘আপনারা নিজেদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসছেন৷’’ কমিশনের আইনজীবী জানান, সুপ্রিম কোর্টে মডেল ফর্ম জমা দেওয়া হবে কমিশনের তরফে। জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন, ফর্ম পূরণ হয়ে যাওয়ার পর কমিশন এখন মডেল ফর্ম শীর্ষ আদালতে জমা দিচ্ছে৷ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে সদস্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং বিচারকদের উপরে কোনও চাপ সৃষ্টি শীর্ষ আদালত করবে না৷ বাংলার ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। অথচ বিপুল সংখ্যায় ডিলিট হওয়া ভোটাররা কোনও শুনানির সুযোগ পাননি অ্যাপলেট ট্রাইব্যুনালে। ভোটার তালিকা ফ্রিজ হওয়ার পরে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীনদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনালই, পর্যবেক্ষণে এমনই জানালো সুপ্রিম কোর্ট। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের শুনানির সময় যে ভোটারদের নথি জমা নেওয়া হয়নি বলে দাবি উঠেছিল, তাঁদের নথি ট্রাইব্যুনালের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী নাম বাদ পড়ার শতাংশ নিয়েও প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে। নির্বাচন কমিশন দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন একজন ব্যক্তিকেও লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির আওতায় আনেনি। সেখানে বাংলাতেই একমাত্র এই ক্যাটাগরি তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। ‘‘নির্বাচনে সঠিক ভোটারের অংশ নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেখানে ১০ শতাংশ মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সেখানে যদি জয়ের মার্জিন ১০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে কি হবে? অন্যদিকে সেখানে ১৫ শতাংশ মানুষ ভোটার তালিকা থেকে পড়েছেন সেখানে যদি জয়ের মার্জিন ২ শতাংশ হয় তখন সেখানে আমাদের বুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে’’, এমনই মত বিচারপতি বাগচির।
‘২০০২-র তালিকায় থাকলেও কেন নাম বাদ?’, SIR মামলায় নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন সুপ্রিমকোর্টের
Byবঙ্গনিউজ
Apr 13, 2026
