নারী সংরক্ষণের বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত নয় ৷ তাঁদের সংরক্ষণ দিয়ে কোনও উপকার করা হচ্ছে এমনটাও ভাবার কারণ নেই ৷ এটা তাঁদের অধিকার ৷ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বঞ্চিত করে আমরা যে অন্য়ায় করেছি এখন সেই পাপমুক্তির সময় এসেছে ৷ নারী সংরক্ষণের বিলের সংশোধনীর উপর বলতে গিয়ে বুধবার লোকসভায় এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ এদিন থেকে তিনদিনের বিশেষ অধিবেশন বসেছে সংসদে ৷ এই অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিলের সংশোধনীর পাশাপাশি লোকসভার আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলও পাশ করাতে চায় কেন্দ্র ৷ ভাষণের একটি অংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নারী শক্তি আজ সমাজের সমস্ত কাজে এগিয়ে আসছে ৷ এই সংরক্ষণ পেলে তাঁদের শক্তি আরও বাড়বে ৷ আমি আপনাদের কাছে সে কথাই বলতে এসেছি ৷”এখনকার সময় নারীরাও বদলে গিয়েছেন ৷ তাঁরা আগের মতো সবকিছু বুঝেও চুপ করে বসে থাকবেন না ৷ নিজেদের কথা তুলে ধরার ক্ষমতা তাঁদের আছে ৷ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁদের সংরক্ষণ দেওয়া নিয়ে কোন দল কী অবস্থান নিচ্ছে তার দিকে দেশের মেয়েরা নজর রাখছে ৷ তাঁর কথায়, “আজ দেশের মেয়েরা আমাদের কাজের দিকে নজর রাখছে ৷ তার চেয়েও বেশি নজর রাখছে আমাদের উদ্দেশ্যের দিকে ৷ যদি তারা বোঝে কারও উদ্দেশ্য খারাপ তাহলে তাকে ক্ষমা করবে না ৷” নারী সংরক্ষণ নিয়ে বলার সময় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তরজায় জড়িয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ কটাক্ষের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলায় কেউ কল্যাণকে কথা বলার সুযোগ দেয় না ৷ তাঁর মুখে তালা লাগানো আছে ৷ তাই তিনি এখানে বলছেন ৷ ওঁকে বাধা দেওয়ার দরকার নেই ৷ এদিন লোকসভার আসন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “শুধু রাজনৈতিক সুবিধে পেতে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে ৷ কিন্তু আমি সংসদকে আশ্বস্ত করছি এই সংরক্ষণ কারও মধ্যে বিভাজন করবে না ৷ দেশের দক্ষিণ হোক উত্তর- কোনও অংশ বঞ্চিত হবে না ৷ এতদিন যে অনুপাতে আসন পুর্নবিন্যাস হত ৷ এখনও সেভাবেই হবে ৷ আপনারা গ্যারেন্টি চাইলে আমি তাও দিতে পারি ৷”

