আইপ্যাকের আরেক কর্তাকে ইডির তলব ৷ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর অন্যতম পরিচালক ঋষি রাজ সিংকে একটি হাওয়ালা লেনদেন-সম্পর্কিত অর্থ পাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ রবিবার এমনটাই জানিয়েছেন আধিকারিকরা ৷
2015 সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে ৷ এর মধ্যে দুটি রাজ্যে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা দল – তৃণমূল কংগ্রেস (পশ্চিমবঙ্গ) এবং ডিএমকে (তামিলনাড়ু) অন্তর্ভুক্ত ৷ এই সংস্থাটির তিনজন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রয়েছেন ৷ ঋষি রাজ সিং, ভিনেশ চান্ডেল (যিনি সম্প্রতি ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন) এবং প্রতীক জৈন । এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তহবিলের কথিত হাওয়ালা লেনদেন সংক্রান্ত এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঋষি রাজ সিং-কে 20 এপ্রিল সোমবার দিল্লিতে ইডি-র দফতরে সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে ৷ তিনি উপস্থিত হওয়ার পর ‘অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন’ (PMLA)-এর আওতায় তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে । জানা গিয়েছে, এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত 2 এপ্রিল বেঙ্গালুরুতে ঋষি রাজ সিং-এর বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি ৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি গত 13 এপ্রিল দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই মামলায় আইপ্যাকের আরেক কর্তা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করে । তিনি বর্তমানে ইডি-র হেফাজতে রয়েছেন । এই তদন্তের সূত্রপাত হয়েছে দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর (FIR) থেকে । ওই এফআইআরে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে হিসাবপত্রে কারচুপি এবং ঋষি রাজ সিং, ভিনেশ চান্ডেল ও প্রতীক জৈন-সহ সংস্থাটির পরিচালকদের মাধ্যমে ‘হিসাব-বহির্ভূত তহবিল’ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে । ইডি এর আগে জানিয়েছিল যে, তারা আই-প্যাক-এর বিরুদ্ধে কথিত আর্থিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন পন্থায় ‘অর্থ পাচারের’ একাধিক নজির খুঁজে পেয়েছে । এর মধ্যে রয়েছে হিসাবভুক্ত ও হিসাব-বহির্ভূত তহবিল গ্রহণ; কোনও ব্যবসায়িক নথিপত্র বা জামানত ছাড়াই ‘অসুরক্ষিত ঋণ’ নেওয়া; ভুয়ো বিল ও ইনভয়েস তৈরি; তৃতীয় কোনও পক্ষের কাছ থেকে তহবিল গ্রহণ এবং হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে নগদ অর্থের লেনদেন । ইডির দাবি, আই-প্যাক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত প্রায় 50 কোটি টাকা পাচারের (laundering) সঙ্গে জড়িত ছিল । এই মামলাটির সঙ্গে কয়লা ‘দুর্নীতি’ সংক্রান্ত তদন্তের একটি ‘যোগসূত্র’ রয়েছে । কয়লা ‘দুর্নীতি’ মামলায় গত 8 জানুয়ারি প্রতীক জৈন-এর বাসভবন এবং কলকাতায় অবস্থিত আই-প্যাক-এর দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি । তবে ইডি-র এই পদক্ষেপটি পরবর্তীতে বিতর্ক তৈরি হয় ৷ কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই তল্লাশি চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সেখান থেকে কিছু নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে যান । তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ইডি মূলত তাঁদের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথিপত্রগুলো বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে । মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার-এর অভিযোগ তুলে ইডি কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এবং এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে ।

