কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত চলাকালীন একজন কর্তব্যরত মুখ্যমন্ত্রী তদন্তস্থলে ঢুকে গণতন্ত্রকে এভাবে বিপন্ন করতে পারেন না ৷ আইপ্যাক মামলায় মৌখিক পর্যবেক্ষণে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের ৷ বুধবার বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় ৷ গত 8 জানুয়ারি সকালে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে ইডি তল্লাশি অভিযান চালায় ৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি শুরু হতেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা ৷ তল্লাশি চলাকালীন প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একটি সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ এরপরে ইডি আইপ্যাকের সল্টলেকের অফিসে পৌঁছয় ৷ সেখানেও যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর সঙ্গে পৌঁছন তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারও ৷ আইপ্যাকের অফিস থেকেও কিছু ফাইল, পেনড্রাইভ এনে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তোলা হয় ৷ ভোটের আগে এই তল্লাশিকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তোপ দাগেন ৷ সাংবাদিকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে ইডি তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি প্রধানের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে । রাজনৈতিক দলগুলোর আইটি প্রধানদের বাড়িতে অভিযান চালানো কি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ ?” এই ঘটনার মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে ৷ ইডি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে ৷ এদিনের শুনানিতে মৌখিক পর্যবেক্ষণে জানায়, এটা শুধু রাজ্য-কেন্দ্রের মধ্যের গণ্ডগোল নয় ৷ কোনও মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত চলাকালীন হঠাৎ সেখানে ঢুকে পড়তে পারেন না ৷ বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই বিতর্ককে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যের ঝামেলায় রূপান্তরিত করা যায় না ৷ এমন আমরা কোনও দিন ভাবিনি এই দেশে এরকম একটি দিন আসবে, যখন তদন্ত চলাকালীন একজন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে ঢুকে পড়বেন ৷ কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এভাবে তদন্ত চলাকালীন সেখানে চলে যেতে পারেন না এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তুলতে পারেন না ৷ এই ঘটনা এমন একজন ব্যক্তিবিশেষ ঘটিয়েছেন, যিনি ঘটনাচক্রে মুখ্যমন্ত্রী এবং তিনি গণতন্ত্রকে সঙ্কটে ফেলেছেন ৷”

