দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ । ভোট শেষে বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল ।

অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের হারের ক্ষেত্রে এটিই সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড । ভোটাররা কোনো ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই ভোট দিয়েছেন – এমন রিপোর্ট পেয়ে আমি সন্তুষ্ট ।” কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর আগে রাজ্যে ভোটের সর্বোচ্চ হার ছিল 2011 সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৷ যা ছিল 84.72 শতাংশ ।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে পুরুষ ভোটারদের তুলনায় মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল বেশি ৷ পুরুষ ভোটারদের ভোটের হার যেখানে 90.92 শতাংশ ছিল, সেখানে মহিলা ভোটারদের ভোটের হার পৌঁছেছে 92.69 শতাংশে । তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের ভোটের হার ছিল 56.79 শতাংশ । আধিকারিকরা জানান, জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার এস.এস. সান্ধু ও বিবেক জোশী সবকটি ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন । ভোটের হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পিছনে তাঁরা ভোটার-বান্ধব বেশ কিছু পদক্ষেপকে কৃতিত্ব দিয়েছেন । এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে উন্নত মানের ভোটার তথ্য স্লিপ, প্রতি বুথে ভোটারের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করা । পরবর্তীতে কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট, যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ভোটের উচ্চ হারে । উন্নতির সুযোগ সবসময়ই থাকে । নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে বিশেষ করে কলকাতায় ভোটারদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনুরূপ উচ্চ হারেরই প্রত্যাশা করছি । দ্বিতীয় ধাপে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছি ।” অন্যদিকে, রাজ্যের পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমার জানান যে, সব মিলিয়ে প্রথম দফা ভোটে বিভিন্ন অশান্তির ঘটনার নির্দিষ্ট মামলায় 41 জন গ্রেফতার । এর মধ্যে দুবরাজপুরে 3 জন, কুমারগঞ্জে 5, সাঁইথিয়ায় 4 জন এবং মুরারইয়ে 4 জন ৷ এছাড়াও প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে 571 জন । (প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট বা প্রতিরোধমূলক হেফাজত হল এমন একটি আইনি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনও ব্যক্তিকে অপরাধ করার আগেই গ্রেফতার করা হয় । এটি কোনও অপরাধের শাস্তিস্বরূপ করা হয় না, বরং ভবিষ্যতে যাতে তিনি কোনও ক্ষতিকর কাজ বা অপরাধ করতে না পারেন, তা রোধ করার জন্য করা হয় ৷ মোটামুটি ভোট শেষের পর মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, এখনও অনেক বুথে পোলিং বাকি রয়েছে তাই শুক্রবারের আগে চূড়ান্ত পোল পার্সেন্টেজ পাওয়া সম্ভব নয় । এবার প্রথম দফার সব ইভিএম চলে যাবে স্ট্রং রুমে । তবে এবার ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন । ভোট দেওয়ার পর তাঁরা খুশি হয়েছেন । অপ্রীতিকর ঘটনা অনেক কম ঘটেছে । তাই সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং স্টেক হোল্ডারদের ধন্যবাদ । তিনি আরও জানান যে, আগেই কমিশন যেমনটা জানিয়ে ছিল যে বুথের ভেতরে এবং 100 মিটারের মধ্যে যেহেতু নিরাপত্তা বলয় বজ্র আঁটুনি থাকবে তাই কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা হবে না । এরিয়া ডমিনেশনের জন্য 100 মিটারের মধ্যে বড় গন্ডগোল হয়নি । আগেকার নির্বাচনে হুমকি আসত, কর্মীদের প্রভাবিত করার প্রশ্ন আসত; এবার সেটা হয়নি ।

ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়া নিয়ে সিইও-র দাবি যে, গরমের কারণে খারাপ হতে পারে । মেশিন খারাপ হলে অবশ্যই বদলে দেওয়া হয়েছে । তবে কোথাও ভোট বন্ধ হয়েছে বলে খবর নেই ।

তাঁর মতে, ভোটের হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল – অনুপস্থিত (Absent), স্থানান্তরিত (Shifted), মৃত ও ভুয়ো (Death and Duplicate) ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে ৷

তিনি আরও জানান যে, কোনও বুথের ভিতরে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা বা ভোটকর্মীদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেনি । কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলি গুরুতর নয় এবং ভোট সংক্রান্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই । লাইনে দাঁড়িয়ে গরমের কারণে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকলে সেটা আলাদা ব্যাপার । কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি বা ওয়েবকাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয়নি । তবে যেসব বুথে ইন্টারনেট ছিল না সেইসব জায়গায় সিম ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে । এছাড়াও সেইসব বুথে মাইক্রো অবজারভার দেওয়া হয়েছে ।