লিফটে মাথা আটকে মৃত্যু জ্যোতি শিবাজী অহিরে (৫০) নামে এক হাসপাতালের মহিলা কর্মীর। সোমবার মহারাষ্ট্রের নাসিকের ডক্টর বসন্তরাও পাওয়ার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই মহিলা সেখানকার কর্মী ছিলেন। পুলিশের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ মামলা দায়ের করেছেন মৃতের পুত্র। জানা গিয়েছে, জ্যোতি সার্জারি বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জাম ওয়ার্ডে নিয়ে আসার জন্য মালবাহী লিফটের সামনে কাজ করছিলেন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কোনও কারণে লিফটের ভিতরে মাথা ঢুকিয়ে কিছু একটা দেখার চেষ্টা করছিলেন জ্যোতি। তখনই আচমকা লিফট চালু হয়ে যায়। নিঃশব্দে নেমে আসে দরজা। জ্যোতি কিছুই বুঝতে পারেননি। তাঁর মাথা আটকে যায় লিফটে। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে শুরু করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের অন্য কর্মীরা ছুটে আসেন। কয়েক জন মিলে তাঁকে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। শেষে বেশ কিছুক্ষণ পরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালের আইসিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। সেখানেই গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

এমন ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জ্যোতির পরিবার। হাসপাতালের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে নাসিকের আডগাঁও থানায় FIR দায়ের করেছেন মৃতের পুত্র। তাঁর দাবি, কর্মীদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থাই করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পরেই লিফটে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, খতিয়ে দেখেন একজন সরকারি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু তাতে কোনও গাফিলতি মেলেনি। কর্তৃপক্ষের দাবি, জ্যোতি নির্দেশিকা মেনে কাজ না করার কারণেই এই দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।