ভোটের ফল এখনও ঘোষিত হয়নি, তার আগেই রাজনৈতিক ময়দানে ‘দলবদল’ এর চাঞ্চল্যকর ছবি । দক্ষিণ 24 পরগনার মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল মাজিদ হালদার হঠাৎই যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে । আর সেই ঘটনাতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে । নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছে প্রদেশ নেতৃত্ব। তৃণমূল প্রার্থী শামীম আহমেদের হাত ধরেই শাসকদলে নাম লেখান মাজিদ হালদার । রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে জোর জল্পনা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কীভাবে ভোটের আগেই দল বদল করেন ? আরও তাৎপর্যপূর্ণ, শামীম আহমেদ নিজেও একসময় কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে এবার সেই তিনিই নিজের প্রাক্তন দলের প্রার্থীকে দলে টানলেন ! এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার । তাঁর কথায়, “এটা প্রার্থী ভাঙানো, সরাসরি গণতন্ত্রের উপর আঘাত । মনোনয়ন জমা ও প্রতীক পাওয়ার পর অন্য দলে যোগ দেওয়া গুরুতর অপরাধ । নির্বাচনী খরচও কংগ্রেস বহন করেছে। তাহলে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না ?” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি । শুভঙ্কর সরকারের আশঙ্কা, ফল ঘোষণার আগে ও পরে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র রাজনীতি আরও বাড়তে পারে । তাঁর দাবি, “যে-ই জিতুক, স্থিতাবস্থা বজায় রাখা উচিত । কিন্তু কেন এই কেনাবেচা হবে ? যারা এগুলো করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি ।” এদিকে, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস । কালীঘাট থানার ওসিকে একাধিকবার বদলি, স্ট্রং রুম ঘিরে উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন শুভঙ্কর । তাঁর অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত ভোটারদের একাংশ ভোট দিতে পারেননি । অন্যদিকে, এআইসিসি নেতা গুলাম আহমেদ মীরের মন্তব্যও অস্বস্তি বাড়িয়েছে কংগ্রেস শিবিরে । তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলায় বিজেপির সরকার গঠনের সম্ভাবনা নেই, বরং তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরতে পারে । যেখানে এবারে জোটের পথে না হেঁটে কংগ্রেস একা লড়াইয়ের পথে হেঁটেছে সেখানে ফল ঘোষণার আগে দলের শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্যে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে । সব মিলিয়ে, ভোটের ফল ঘোষণার আগেই মগরাহাটের এই ‘দলবদল’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল । এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগে কী পদক্ষেপ করে এবং তার প্রভাব পড়ে কি না আগামিকালের ফলাফলে ।

