রাত পোহালেই শুরু হবে গণনা। ভোট কেন্দ্রগুলিতে মাছি গলার উপায় নেই। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা এলাকা। চলছে তীক্ষ্ণ নজরদারি। কিন্তু আচমকা লোডশেডিং হয়ে গেলে কী হবে? রবিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল বললেন, ‘আমরা সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। জেনারেটরও রাখা হচ্ছে।’ একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তাই নির্বাচন কমিশন এ বার সাবধানী। এই নিয়ে যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে তার জন্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাগুলির সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলেছেন। মনোজ বলেন, ‘WBSEDCL এবং CESC-এর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা বলেছি, গণনার সময়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেটা দেখতে। তার পরেও জেনারেটর রাখা হচ্ছে।’ এই নিয়ে রাতে বিদ্যুৎ দপ্তরের জেনারেল সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন মনোজ। রাজ্যে দুই দফার ভোট (২৩ এবং ২৯ এপ্রিল) নির্বিঘ্নেই মিটেছে বলে জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। রাজনৈতিক খুনোখুনি বা বোমাবাজির খবর সামনে আসেনি। মনোজ জোর দিয়ে বললেন, ‘একই রকম ভাবে গণনাও হবে। নির্বাচন কমিশন কোনও অশান্তি করতে দেবে না।’ শান্তিপূর্ণ ভোট এবং গণনার সঙ্গে বাংলার সুনাম জড়িয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মনোজের কথায়, ‘এই নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।’ এ বার রাজ্যে মোট ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রত্যেক গণনাকেন্দ্রে থাকবে ২ কোম্পানি করে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কথায়, ‘কেউ জিতবে, কেউ হারবে। তার পরে আবার ভোট। কিন্তু নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক থাকবে না।’ তবে জয়ী দল বিজয় মিছিল করতে পারবে কি না, তা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। মনোজ বলেন, ‘গণনার দিন বিজয় মিছিলে অশান্তির সম্ভাবনা থাকে। এই বিষয়ে DEO-দের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’ ২১ মে ফলতার সব কেন্দ্রে ফের ভোট হবে। শনিবার বেশ কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও উত্তেজনার খবর সামনে আসে। এই নিয়ে মনোজ বলেন, ‘গণনার পরে ওয়েবকাস্টিংয়ের ফুটেজ খতিয়ে দেখব। তার পরে সিদ্ধান্ত নেব। এর সঙ্গে কোনও সরকারি কর্মী যুক্ত থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’