“যেটা মা ক্যান্টিন নাম ছিল, মা আহার-এর নামে এই প্রকল্প চলবে।” নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করলেন করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি এই সংক্রান্ত আরও বড় ঘোষণা করেন তিনি । মন্ত্রী বলেন, “আগে ৩৯০টি স্থানে চলত। ৫ টাকায় মিল দেওয়া হত। আরও ১১০টি নতুন মা আহার প্রকল্পের কেন্দ্র স্থাপিত হবে। মোট ৫০০টি কেন্দ্র থেকে আহার বিতরণ করা হবে ৫ টাকার বিনিময়ে।” তৃতীয় বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অর্থ দফতরের উদ্যোগে পাঁচ টাকার বিনিময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ‘মা ক্যান্টিন’ চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সেখানে প্রতি দিন দুপুরে পাঁচ টাকার বিনিময়ে ডাল, ভাত, তরকারি এবং ডিম দেওয়া হত। বেলা ১২টা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত চলত এই ক্যান্টিন। তৃণমূলের পতনের পর এখন রাজ্য়ে বিজেপি সরকার । রাজ্য়ের মসনদের মতোই পাল্টেছে মা ক্য়ান্টিনের মেনু । কথায় আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। ‘মা-ক্য়ান্টিন’ যা এখন ‘মা আহার’ হয়ে গেছে, সেখানে ৫ টাকার প্লেটে মাছ থাকার কথা আগেই জানিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছি এবং এটা আমরা কার্যকর করতে চলেছি। আমাদের যে মা ক্য়ান্টিন রয়েছে সেই ক্য়ান্টিনগুলোতে আমরা ২ দিন করে মাছ খাওয়াব সপ্তাহে। ২ দিন করে মাছ খাওয়াব। ৫ টাকাতেই খাওয়াব। এই কাজগুলো আমরা করছি।” অর্থাৎ, গরিবের পাতে মাছ তুলে দেওয়ার উদ্য়োগ নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এতদিন ডিম-ভাত যেটা ৫ টাকায় ছিল, ওটা চালু থাকবে তার সঙ্গে মাছও দেওয়া হবে। তার কোয়ালিটিও ঠিকঠাক করা হবে যাতে লোক খেতে পায়। আরও বেশি জায়গায় যাতে করা যায়।” অর্থাৎ, আরও কেন্দ্র তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেইমতো এদিন আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্রের কথা সাংবাদিক বৈঠকে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময়, বারবার বাগযুদ্ধের কেন্দ্রে উঠে এসেছে মাছ-ভাত। তৃণমূল মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-ভাত বন্ধ করে দেবে। পাল্টা এরাজ্য়ের বিজেপি নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এরকম কোনও সম্ভাবনাই নেই। শেষ অবধি বিজেপির কথাতেই আস্থা রেখেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। ক্ষমতায় এসে কথা রেখেছে বিজেপি-ও। বিধানসভায় শপথগ্রহণের দিনও বিজেপি বিধায়কদের মেনুতে ছিল মাছ-ভাত।

