ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী ৷ বৃহস্পতিবার পুর কমিশনারের দফতরে গিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন ৷ পুর ও নগরোন্নয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছেও পদত্যাগ পত্রের কপি পাঠিয়েছেন ৷ দীর্ঘদিন ধরে বিধাননগরের পুর-প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকা কৃষ্ণা চক্রবর্তীর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে ৷ তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ এখনও দলের পক্ষ থেকে বা তাঁর তরফে খোলসা করা হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এটা আমার নিজস্ব মতামত ৷ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ৷ সকলের কাছে যা ভালোবাসা পেয়েছি তাতে আমি কৃতজ্ঞ ৷ কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করব ৷ অনেকেই ফোন করছেন ৷ বিধাননগরবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ ৷ আমি অনেক ছোট থেকে মানুষের কাজ করি। যা যা নিয়ম মেনে ইস্তফা দিতে হয়, ঠিক সেভাবেই দিয়েছি ৷ রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে ৷ তারপর থেকেই আসছেন না কাউন্সিলররা, বসে থাকছি ৷ স্বাভাবিক কারণেই পুরনিগমের কাজ থমকে গিয়েছে ৷ বোর্ড মিটিং হচ্ছে না ৷ MIC হচ্ছে না ৷ বিধাননগরের নাগরিককে পরিষেবা দিতে পারছি না ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের সমান ৷ কিন্তু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না ৷” এনিয়ে বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারম্যান সবব্যসাচী দত্ত বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে মেয়র ও কমিশনারকে বলে যাচ্ছি প্রতি মাসে মিটিংয়ের জন্য ৷ কিন্তু তাঁর সময় হয়নি ৷ মেয়র পদত্যাগ করায় স্বাভাবিকভাবেই বোর্ড ভেঙে যাবে ৷ তবে উনি বলেছেন, কাউন্সিলর (29 নম্বর ওয়ার্ড) ও পুরমাতা হিসাবে পরিষেবা দিয়ে যাবেন ৷” এদিকে, রাজনৈতির পালাবদলের পর বিধানসভার বিধায়ক তথা পূর্ণমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, গত একমাসে বিধাননগর পুরনিগমের আধিকারিকদের সঙ্গে মিটিং করেছেন ৷ মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগের ব্যাপারে তিনি বলেন, “টাকার গদিতে ছিলেন তো, তাই মায়া লাগছে ছাড়তে ৷ 18-19টি সম্পত্তি লিপিবদ্ধ করেছি আমরা ৷ তা জেনে ফেলতেই পর্দার আড়ালে যেতে চাইছেন ৷ ওনার ভালো লাগেছ না ৷”