তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’। সংগঠনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৃহস্পতিবার লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে মমতার নামে করা ওই অভিযোগপত্র ৷ সংগঠনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী দাবি করেন, ধর্মতলার ওয়াই-চ্যানেলে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরেও ভুল বার্তা দিতে পারে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের ফলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে। অভিযোগপত্রে বক্তব্যটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপেরও দাবি তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগেও এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের এক আইনজীবী শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (2 জুন) ধর্মতলার সভায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের এক বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করেছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ করছেন না এবং এবিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছিল।” পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় দাবি করেন, ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত সে সম্পর্কে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, তিনি বাংলাদেশের এক আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গই তুলেছিলেন। সেই মন্তব্য ঘিরেই এখন নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।


