দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে ভিআইপি টিকিট বিক্রির অভিযোগ ৷ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের বৌবাজার থানায় ৷ অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ইউনেস্কো স্বীকৃতির নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে একটি অবৈধ বাণিজ্যিক চক্র পরিচালনা করা হচ্ছিল । সোমবার কলকাতা পুলিশের কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বউবাজার থানার কাছে বিস্তারিত অভিযোগ জমা দেয় আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা মেঘদূত ফাউন্ডেশন । সংস্থার কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও সগুনা মুখোপাধ্যায় অভিযোগে জানান, দুর্গাপুজোর আগে বিশেষ প্রিভিউ-শো বা আগাম মণ্ডপ দর্শনের নামে উচ্চমূল্যে ভিআইপি টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল ৷ এই বিষয় নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “অভিযোগ হয়েছে । তবে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে হবে ৷ অভিযোগ অনুযায়ী ধারা যুক্ত করার কাজ বাকি আছে ৷” অভিযোগপত্রে ইন্দ্রনীল সেন ও মধুছন্দা সেন ছাড়াও ‘মাস আর্ট’ ও টালা প্রত্যয়ের কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ, সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৷ অভিযোগকারীদের দাবি, এই টিকিট বিক্রির প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হলেও, বাস্তবে এই ধরনের কোনও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও সম্পর্ক নেই । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের সমর্থনে একাধিক নথি, সরকারি ই-মেল এবং আইনি দলিল জমা দেওয়া হয়েছে । ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, ইউনেস্কো কখনও এই ধরনের টিকিট বিক্রি বা বাণিজ্যিক উদ্যোগের অনুমোদন দেয়নি । ফলে ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ ।

বিষয়টি সামনে আসতেই শহরের পুজোমহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মাস আর্ট’ জানাত যে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় নির্বাচিত ২৪টি পুজোমণ্ডপকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘প্রিভিলেজড প্রি পুজো এন্ট্রি টিকিট’ নামেও টিকিট বিক্রি করা হত বলে দাবি করা হয়েছে! অভিযোগকারীর বক্তব্য, এইভাবে এমন ছবি তুলে ধরা হয়েছিল যেন ইউনেস্কো সরাসরি এই বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল না বলেই দাবি। জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের মতে, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একটি “অবৈধ বাণিজ্যচক্র” তৈরি হয়েছে এবং তার সঙ্গে ‘মাস আর্ট’-এর সরাসরি যোগ রয়েছে।

এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুর্গাপুজোর মতো সাংস্কৃতিক উৎসবকে ব্যবহার করে ব্যবসার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে ২০২২ সাল থেকে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়েছে! তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ‘মাস আর্ট’-এর কর্ণধার ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। দাবি করা হয়েছে, কলকাতার বড় ২৪টি দুর্গাপুজোকে বেছে নিয়ে বিশেষ স্বীকৃতির নামে অনুষ্ঠান করা হত। এই প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই শহরের পুজোমহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মাস আর্ট’ জানাত যে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় নির্বাচিত ২৪টি পুজোমণ্ডপকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘প্রিভিলেজড প্রি পুজো এন্ট্রি টিকিট’ নামেও টিকিট বিক্রি করা হত বলে দাবি করা হয়েছে! অভিযোগকারীর বক্তব্য, এইভাবে এমন ছবি তুলে ধরা হয়েছিল যেন ইউনেস্কো সরাসরি এই বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল না বলেই দাবি। জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের মতে, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একটি “অবৈধ বাণিজ্যচক্র” তৈরি হয়েছে এবং তার সঙ্গে ‘মাস আর্ট’-এর সরাসরি যোগ রয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুর্গাপুজোর মতো সাংস্কৃতিক উৎসবকে ব্যবহার করে ব্যবসার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতার দুর্গাপুজোকে আবহমান ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। অভিযোগ, সেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকেই হাতিয়ার করে পরে এই প্রচার চালানো হয়েছে! জয়দীপ জানান, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি মালেকার রিউবেনের সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেন। পরে লিখিতভাবেও ইউনেস্কোর তরফে জানানো হয় যে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে তাদের কোনও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল না! আরও বলা হয়, ইউনেস্কো শুধু ২০২৫ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপুজোয় সাধারণ মানুষের প্রবেশ আরও সহজ করার বিষয়ে একটি সীমিত চুক্তি করেছিল। অর্থাৎ পুজো কমিটিগুলিকে সহজ প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। এর বাইরে অন্য কোনও বাণিজ্যিক যোগ ছিল না বলেই জানানো হয়। লিখিত জবাবে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়, ইউনেস্কো কোনওভাবেই প্যান্ডেল নির্বাচন, টিকিট বিক্রি বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নয়! এই প্রসঙ্গে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “দুর্গাপুজোর ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে ভেঙে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডের ফলে ইউনেস্কোর ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “প্রিভিউ শো-এর মাধ্যমে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে সাংস্কৃতিক প্রতারণা করা হয়েছে।” ঘটনাচক্রে, এই বছরও দুর্গাপুজোর আগে ‘মাস আর্ট’-এর প্রিভিউ শোয়ের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে! আগামী ৭ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে বিতর্ক আরও জোরাল হয়েছে। এবার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ‘মাস আর্ট’-এর অন্যতম উদ্যোক্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু বলেন, “কনসার্নড অথরিটি যদি আমার কাছে এ বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান, তাহলে আমি তা অবশ্যই দেখাব। কিন্তু এই ধরনের অভিযোগের আমি কোনও জবাব দেব না।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ধ্রুবজ্যোতি শুধু ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গেই যুক্ত নন, তিনি কলকাতার অন্যতম বড় পুজো টালা প্রত্যয়েরও গুরুত্বপূর্ণ কর্তা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। টালা প্রত্যয়ের থিমের নামকরণ থেকে উদ্বোধন পর্যন্ত বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি হুগলি থেকে নির্বাচিত এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।