সিকিমের সঙ্গে এরাজ্যের রেসিপ্রোকাল এগ্রিমেন্ট বা পরিবহণ চুক্তির জট খুলতে চলেছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং যে কথা বলেছেন, তাতেই এই ইঙ্গিত মিলেছে। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে দুই রাজ্যের পরিবহণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে। মূলত পর্যটননির্ভর পরিবহণ ব্যবসায়ীরা আশার আলো দেখছেন। পাশাপাশি, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও কিছুটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সিকিমের সঙ্গে এরাজ্যের শেষ পরিবহণ চুক্তি হয়েছিল ২০১৮ সালে। কিন্তু অনেকাংশেই তা কার্যকর না হওয়ায় এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় নতুন চুক্তির দাবি উঠছিল দীর্ঘদিন ধরেই। সিকিমের গাড়ি বিনা বাধায় শিলিগুড়ি সহ এ রাজ্যের সর্বত্র ঘুরতে পারে। কিন্তু এরাজ্যের গাড়ি সিকিমের নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গার বাইরে যেতে পারে না। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব সমতলের পরিবহণ ব্যবসায়ী ও চালকরা। এমনকি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছেও সমতলের চালকদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে একাধিকবার। এমন কিছু বিষয়কে সামনে রেখেই নতুন করে দুই রাজ্যের মধ্যে পরিবহণ চুক্তির দাবি উঠেছে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও রেসিপ্রোকাল এগ্রিমেন্ট হয়নি। নতুন চুক্তির কথা বৃহস্পতিবার বলেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্ন থেকে বেরিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দুই রাজ্যের পরিবহণ চুক্তি, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, তিস্তায় ড্রেজিং, শিলিগুড়িতে সিকিমের স্বাস্থ্য ভবন নির্মাণ সহ কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।’ সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রেসিপ্রোকাল এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে তিন হাজারের পরিবর্তে সিকিমের ছয় হাজার ট্যাক্সি প্রতিদিন পশ্চিমবঙ্গে যেতে পারবে। তাহলে কি এরাজ্যেরও ছয় হাজার গাড়ি পাহাড়ে উঠতে পারবে, প্রশ্ন উঠছে। সমতলের এক পরিবহণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে নিজের রাজ্যের কথা বলেছেন। পাহাড়ের যে সংখ্যক গাড়ি সমতলে আসবে, নিশ্চিতভাবে আমাদেরও ওই সংখ্যার গাড়ি পাহাড়ে উঠবে। এতদিন তো তাই হয়েছে।’