১৪৪ থেকে বেড়ে কলকাতার ওর্য়াড সংখ্যা হতে পারে ২০০টি ৷ কলকাতা পুরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে একটি কমিটি ৷ যার নাম দেওয়া হয়েছে সেন্ট্রাল ডিলিমিটেশন কমিটি । স্পেশাল কমিশনার এই কমিটির চেয়ারম্যান । আমন্ত্রিত হিসেবে আছেন ডিইও নর্থ, ডিইও সাউথ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক । কয়েকদিন আগে কলকাতা পুরনিগমের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ সেই অনুষ্ঠান থেকে তিনি জানিয়ে গিয়েছিলেন, কলকাতা পুরনিগমের ভোট হবে চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যেই । পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ভোটের আগে কলকাতার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হবে । এবার সেই লক্ষ্যে গঠিত হল সেন্ট্রাল ডিলিমিটেশন কমিটি । কলকাতা পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কমিটির মাথায় থাকছেন পুর স্পেশাল কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য । কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন চিফ ল-অফিসার মহম্মদ সেলিম আনসারী, যুগ্ম কমিশনার জ্যোতির্ময় তাঁতি, ডিজি সিভিলের জ্যোতিপ্রকাশ সরকার, চিফ ম্যানেজার রেভিনিউ (নর্থ) সৌভিক সিকদার, চিফ ম্যানেজার রেভিনিউ (সাউথ) ভাস্কর ভট্টাচার্য, চিফ ম্যানেজার রাখি গঙ্গোপাধ্যায় ও মুকুলরঞ্জন বারুই, চিফ ভেক্টর অফিসার দেবাশিস বিশ্বাস ৷ মেম্বার সেক্রেটারি হয়েছেন চিফ ভ্যালুয়ার অ্যান্ড সার্ভেয়ার নীতীশ বসাক ।
মোট ২০০টি ওয়ার্ড করার লক্ষ্যে এই কমিটি ওয়ার্ডগুলির সীমা নির্ধারণ স্ক্রুটিনি করবে । অঞ্চল বিন্যাস করবে । এই কমিটি ডিলিমিটেসনের কাজ নজরদারি করবে, পরামর্শ দেবে । এই কমিটি সহযোগিতা করবে বরো ডি কমিটিকে । যাতে বরো এলাকাগুলি সুষ্ঠুভাবে পুনর্বিন্যাস করা যায় । এর জন্য সকল সদস্যকে ট্রেনিং দেওয়া হবে । পুরনিগম সূত্রে খবর, এক একটি ওয়ার্ডে ১৫০০০-১৬০০০ ভোটার রাখা হবে । আয়তনের দিকে বিচার করা হবে । পরিষেবার ভাগ কী হবে, সেটাও দেখা হবে । ৫৬টি ওয়ার্ড বাড়লে বাড়বে বরোর সংখ্যাও । পাশাপশি কলকাতা পুরনিগমের মূল ভবনে অধিবেশন কক্ষের অভ্যন্তরে বসার জায়গা বাড়ানো পরিকল্পনা চলছে । কমিটিতে আমন্ত্রিত সদস্য ডিস্ট্রিক ইলেকশন অফিসার (নর্থ), ডিস্ট্রিক ইলেকশন অফিসার (সাউথ), জেলাশাসক (দক্ষিণ ২৪ পরগনা) । এই কমিটির রিপোর্ট আগামী ২৭ তারিখের মধ্যেই কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসকের কাছে জমা পড়বে ৷
কলকাতায় বড় ওয়ার্ডগুলির মধ্যে আছে ৫৮,১০৯,৬৫-র মতো ওয়ার্ড । এসআইআর পর্ব শেষে এখানে ৪৫ থেকে পঁচাশি হাজারের কাছাকাছি ভোটার সংখ্যা রয়েছে । এদিকে, কেন্দ্রীয় কমিটির মতো প্রতিটি বরো এলাকায় সিভিল বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে মাথায় রেখে ৫-৬ জনের একটি বরো ডিলিমিটেশন কমিটিও গঠন করা হয়েছে । কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক বলেন, “প্রস্তুতি চলছে । চলতি মাসের ২৭ তারিখের মধ্যেই প্রশাসক ও পুর কমিশনারের স্মিতা পাণ্ডের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে । তার ভিত্তিতে তিনি সুপারিশ করবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ।”

