দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে অচৈতন্য করে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে ৷ পড়ানোর নাম করে বাড়িতে ডেকে মাদক খাইয়ে অভিযুক্ত এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ ৷ ঘটনাস্থল লেকটাউন ৷ নাবালিকার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন চারেক আগে ওই কিশোরীকে নিজের বাড়িতে পড়তে ডেকেছিলেন গৃহশিক্ষক ৷ পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, পড়ানোর নাম করে একটি ফাঁকা ঘরে তাকে নিয়ে যান অভিযুক্ত ৷ সেখানেই কিশোরীকে পানীয় দেন তিনি ৷ সেটি পান করার পর তার মাথা ভারী হতে থাকে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে অচৈতন্য হয়ে পড়ে সে ৷ মনে করা হচ্ছে ওই পানীয়তে কড়া মাত্রায় মাদক জাতীয় কোনও ওষুধ মেশানো ছিল ৷ অভিযোগ, কিশোরী জ্ঞান হারালে তাকে যৌন নির্যাতন করেন ওই গৃহশিক্ষক ৷ জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে অসংলগ্ন অবস্থায় দেখে সে বুঝতে পারে, তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে ৷ সেই সময় নির্যাতিতা নাবালিকা অসুস্থবোধ করায়, কোনও প্রকার প্রতিবাদ না-করেই বাড়ি ফিরে আসে ৷ বাড়ি ফিরেও সে পরিবারের কাউকে কিছু বলেনি ৷ ভয় ও অপমানে প্রায় তিনদিন চুপ করেছিল নির্যাতিতা ৷ কিন্তু, ক্রমশ সে অসুস্থ হতে থাকে ৷ মানসিকভাবেও ভেঙে পড়তে থাকে ৷ তখন বাড়িতে বিষয়টি জানায় সে ৷ এরপর শনিবার রাতে পরিবারের তরফে লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে ৷ পকসো আইনে পুলিশ মামলা রুজু করেছে ৷ অভিযোগ দায়ের হতেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে পুলিশ প্রশাসন ৷ রাতেই অভিযুক্ত গৃহশিক্ষককে গ্রেফতার করা হয় ৷ নির্যাতিতা নাবালিকা শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে পুলিশের তরফে ৷ লেকটাউন থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ৷ নির্যাতিতার জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে ৷ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা ৷ অন্যদিকে, রবিবার ধৃতকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয় ৷ আদালতে তোলার সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন ৷ তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক ৷

