banganews.net

আদালতের নির্দেশে ধর্মতলার বদলে এবার কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের আসর বসছে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। সোমবার বিকেল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। সেই দুর্যোগ মাথায় নিয়েই বিকেলের পর তারামণ্ডল চত্বরে একুশের সভাস্থল ঘুরে দেখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, কুণাল ঘোষ-সহ কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। মঞ্চের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এদিন প্রশাসন ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়ান নেত্রী। দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মীদের থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানিতে ধর্মতলায় সভার অনুমতি দেয়নি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। আদি তৃণমূল ও রাজ্যের প্রস্তাবিত বিকল্প জায়গাগুলির মধ্যে তারামণ্ডল চত্বরকেই বেছে নেয় আদালত। তবে বেঁধে দেওয়া হয় কড়া শর্ত। নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত রাস্তার একধারে চলবে সভা, অন্যদিক দিয়ে সচল রাখতে হবে যান চলাচল। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, আয়োজকদের নাম ও ফোন নম্বর ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে জয়েন্ট সিপি হেড কোয়ার্টারকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রবিবার থেকেই সভাস্থলের প্রস্তুতি তদারকি করছিলেন কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। কিন্তু সোমবারের বৃষ্টিতে মঞ্চের কাঠের পাটাতন ভিজে একসা হয়ে যায়। এদিন সভাস্থলে পৌঁছে অব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি তোপ দাগেন মমতা। পুলিশি নিরাপত্তা না থাকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কোর্টের পারমিশন থাকা সত্ত্বেও আমাদের এই স্টেজ ডেকোরেশন করবার জন্য অনেক দেরি করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও গতকাল লোডশেডিংও করে দেওয়া হয়েছিল।” ভিনরাজ্য থেকে লোক আনা নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করার পাশাপাশি, নিজেদের কর্মীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন তিনি। নেত্রীর অভিযোগ, তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না, এমনকী একটি ধর্মশালাও দেওয়া হয়নি। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দলের কর্মীরা যে প্রাণের টানে ছুটে আসছেন, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কড়া বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, “যারা বলছেন না থাকবেন নাম, না থাকবেন নিশানা, তাদের বলি, এটা স্পর্ধার কথা, আমাদের বলবেন না। তার কারণ, আমরা ছিলাম, আছি, মানুষের সঙ্গে থাকব, কর্মীদের সঙ্গে থাকব।” কর্মীদের উদ্দীপ্ত করে তাঁর সংযোজন, “আগামীকাল নতুন করে পথ চলার দিন।” অন্যদিকে, এদিন কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চ পরিদর্শনে এসে দলেরই একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরে ‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দূর হটো’ স্লোগান তুলতে থাকেন কর্মীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য শিবিরে গেলেও, নয়না এখনও কালীঘাট শিবিরেই রয়েছেন। এদিনের এই বিক্ষোভ নিয়ে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হন বিধায়ক।