আন্দোলনরত পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৷ আরও একবার তাঁকে এমনই পরামর্শ দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ৷ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না দেওয়ায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা এবং অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী শিবিরের শীর্ষনেতাদের আটক করে পুলিশ ৷ গায়ের জেরে তাঁদের লোককল্যাণ মার্গ (প্রেধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের রাস্তা ) থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ রাহুলের দাবি সরকার আলোচনায় আগ্রহী ছিল না বলেই তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে যান ৷ রাত সাড়ে 11টা নাগাদ আটক অবস্থায় দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়াম থেকে দেওয়া এক ভিডিয়ো বার্তায় রাহুল বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পডুয়াদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে তার জন্য আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর দেশের পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ৷ ” শুধু তাই নয়, অমিত শাহের পাশপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন রাহুল ৷ একদিন আগে সোমবার সংসদ চলো অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি ৷ দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে তাঁদের মিছিল করে সংসদ ভবনে যাওয়ার কথা ছিল ৷ কিন্তু তাঁদের রুখতে দিল্লি পুলিশ অতিসক্রিয় ভূমিকা নেয় ৷ আন্দোলনকারীদরে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয় ৷ লাঠিচার্জেও আহত হন অনেক পড়ুয়া ৷ মোট 80 জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় ৷ এর মধ্য়ে এক তরুণী ছাড়া বাকিরা হাসপাতাল থেকে ছা়ড়া পেয়েছেন ৷ কিন্তু ওই তরুণী এখনও হাসপাতালেই ভর্তি ৷
পুলিশের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সরব হয় বিরোধী শিবির ৷ লোকসভা এবং রাজ্যসভায় আলোচনা চায় কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি ৷ সেই মর্মে রাহুল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন ৷ স্পিকার জানান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন ৷ যদিও কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা বুঝতে পারেন সরকার আলোচনা করতে রাজি নয় ৷ ভিডিয়ো বার্তায় এমন দাবি করে রাহুল বলেন, “স্পিকার আলোচনায় রাজি না হওয়ায় আমরা ঠিক করি প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না দেব ৷ প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে সোমবার যা হয়েছে তার থেকে বড় আর কোনও ইস্যু দেশের কাছে নেই ৷ আমরা চেয়েছিলাম দেশকে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে অবগত করতে ৷ “

