ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। সেখানকার উটো এলাকায় ৭.১ মাত্রার জোরালো কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে খবর। জারি সুনামি সতর্কতা।
উপকূল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল বাসিন্দাদের । আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল গোটা অঞ্চলে । জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কুমামোতো প্রিফেকচারের কাছে অগভীর ভূস্তরে । কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কিউশুর বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িঘর দুলে ওঠে । সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুমামোতোর পশ্চিম উপকূল-সংলগ্ন আরিয়াকে উপসাগর এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় । প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, সমুদ্রে প্রায় এক মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে । পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত সক্রিয় হয় জাপান সরকার । প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন । সামাজিক মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন, উপকূলবর্তী এলাকায় কেউ যেন অবস্থান না করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলেন । তাঁর কথায়, “মানুষের জীবনই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ।” শুধু ভূমিকম্প নয়, প্রশাসনের বড় উদ্বেগ এখন আফটারশক । জাপান আবহাওয়া সংস্থার ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ শিনজি কিয়োমোতো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি অগভীর গভীরতায় হওয়ায় এলাকায় ভূকম্পনজনিত অস্থিরতা বেড়েছে । আগামী 48 থেকে 72 ঘণ্টা আরও শক্তিশালী কম্পন হতে পারে । তাই বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক নয়, বরং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না মিললেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ছবি এখনও স্পষ্ট নয় । নিরাপত্তার স্বার্থে কিউশু অঞ্চলে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে । স্থানীয় ট্রেন পরিষেবাও স্থগিত করা হয় । কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু হয়েছে । জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নজরদারি বিমান পাঠিয়েছে । একই সঙ্গে স্বস্তির খবরও দিয়েছে জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা । কিউশু অঞ্চলের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেই কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি ।

