সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে মদন মিত্র বলেন, “দুপুর ১২টা ১০মিনিট নাগাদ আমি ডুকেছি ৷ এখন বাজে ৫টা ৷ আমাকে যা যা জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আমি তার উত্তর দিয়েছি ৷ আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি ৷ মুখে বলেছি ৷ লিখিত দিয়েছি ৷ আমি পুরোপুরি সহযোগিতা করেছি ৷ যা নথি চেয়েছিলেন, আমি সব দিয়েছি ৷” তিনি আরও বলেন, “আবারও বলছি, আমি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নয় ৷” পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এদিন তৃণমূল নেতা তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারী সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবার নির্দিষ্ট সময়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হনয়েছিলেন তিনি। তদন্তে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আসারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সল্টলেক সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মেজাজে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মদন ৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন, ইডি-র তদন্তে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সব রকম ভাবে সাহায্য করতে তিনি প্রস্তুত। তিনি জোর গলায় বলেন, “ইডি আমাকে ডেকেছে, আমি ওদের সব প্রশ্নের উত্তর দেব। আমি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। যা যা বলার, তা ইডি আধিকারিকদেরই মুখোমুখি বসে বলব। ইডি আমাকে যেভাবে প্রশ্ন করবে বা নির্দেশ দেবে, আমি ঠিক সেভাবেই সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।” বিকেলে ইডি আধিকারিকদের জেরা শেষে সিজিও কমপ্লেক্সে থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে আমি সব রকম সহযোগিতা করেছি ৷ আমাকে যা যা জিজ্ঞেস করা হয়েছে এবং নথি চাওয়া হয়েছে, আমি সব দিয়েছি ৷ আশকরি, আমার উত্তরে আধিকারিকরা সন্তুষ্ট হবেন ৷” মদন মিত্রের এই হাজিরার আগেই গত সপ্তাহে টানা কয়েক দিন ধরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি আধিকারিকরা। বিধায়কের দুই ছেলে শুভরূপ মিত্র, স্বরূপ মিত্র এবং স্ত্রী অর্চনা মিত্র ইতিমধ্যেই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন। ইডি সূত্রে খবর, বিধায়ক-পুত্রের কাছ থেকে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, আইটি রিটার্নের নথি ও আর্থিক লেনদেনের হিসেব চাওয়া হয়েছিল। পরিবারে কোনো বেআইনি বা হিসাব-বহির্ভূত আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না এবং সেখান দিয়ে কোনো অসাধু টাকা গিয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রের খবর, পুরনিয়োগে আর্থিক অনিয়ম এবং বেআইনি নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই মদন মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, মামলার আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে। এর আগেই এই মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী এবং তাঁর দুই ছেলেকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডি আধিকারিকরা। তদন্তে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তত ১২৫ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করা হয়। সেই অর্থ কোন কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, কারা সেই টাকার সুবিধাভোগী এবং অর্থের গতিপথ কী ছিল- তা খতিয়ে দেখাই এখন ইডির মূল লক্ষ্য। তদন্তকারীদের মতে, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ একাধিক ব্যক্তি ও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যেসব পুরসভায় বেআইনিভাবে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে কামারহাটি পুরসভা অন্যতম। অভিযোগ, ওই পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই নিয়োগকে কেন্দ্র করেই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা এখন সেই নিয়োগের নথি, অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য মিলিয়ে দেখছেন।

