তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ চোখের চিকিৎসা করাতে শর্তসাপেক্ষে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে তিন সপ্তাহের জন্য তাঁর বিদেশযাত্রায় কোনও বাধা সৃষ্টি করা যাবে না ৷ শর্ত হিসাবে আদালত জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে ৷ পাশাপাশি, অভিষেককে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, তাঁর অন্য কোনও পাসপোর্ট নেই ৷ এছাড়া বিদেশে গিয়ে তিনি কোথায় থাকবেন, হাসপাতালের নাম, চিকিৎসক, কোন তারিখে তিনি ফিরবেন, বিমানের বিস্তারিত তথ্য, সমস্ত কিছু জানাতে হবে তাঁকে ৷ তবে, এই সব তথ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি প্রকাশ করতে পারবে না-বলেও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত ৷উল্লেখ্য, অভিষেককে এই বিদেশযাত্রার অনুমতি পেতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বিগত দু’মাসে ৷ প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট, সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট ৷ শীর্ষ আদালত থেকে ফের হাইকোর্ট হয়ে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ শুধুমাত্র চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে এতবার কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের চক্কর কাটতে হয়েছে তাঁকে ৷ অবশেষে স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ ৷ তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে চোখের চিকিৎসা করাতে যেতে পারবেন অভিষেক ৷এ দিনের শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদনের বিরোধিতা করেন ৷ তিনি বলেন, “তাঁর (অভিষেক) বিরুদ্ধে আরাও 15টি মামলা রয়েছে ৷ এই মামলাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷” এএসজি-র বক্তব্য শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “রাজ্যে আরও অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে ৷ সেগুলির তদন্ত করা উচিত ৷ প্রত্যেক নাগরিকের পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় চিকিৎসা করানোর অধিকার আছে ৷” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর থেকে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়েছে । তিনি একটি ন্যাশনাল পলিটিক্যাল পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ৷ এভাবে তাঁকে আটকানোর কোনও মানে হয় না !

উল্লেখ্য, গত 23 জুন অভিষেক চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন ৷ 20 জুলাই সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁর বিদেশযাত্রার আবেদনে সাড়া দেয়নি ৷ বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, “আমাদের রাজ্যে এত ভালো ভালো চোখের ক্লিনিক রয়েছে । আগে তদন্তে সহযোগিতা করুন । প্রয়োজনে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানকে দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে ৷ এই সমস্যার চিকিৎসা এখানে সম্ভব কি না, তা জানা হবে ।” পরবর্তী সময়ে গত 3 অগস্ট ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কিন্তু, শীর্ষ আদালত সেই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফিরিয়ে দেয় ৷ নির্দেশ দেওয়া হয়, এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে ৷ কিন্তু, গত 5 অগস্ট বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ ফের অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ করে দেন ৷