জুলাই মাসে ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ টানা দ্বিতীয় মাসে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে ৷ এটি রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি সত্ত্বেও সাশ্রয়ী মূল্যের রুশ তেল সরবরাহের উপর ভারতের অবিচল নির্ভরতাকেই প্রমাণ করে। যখন রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর 100 শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সাম্প্রতিক তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, 2026 সালের জুন মাসে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ 48 শতাংশে পৌঁছেছে। মার্কিন সেনেট 86-11 ভোটে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অফ 2026’ অনুমোদন করেছে। এই বিলের লক্ষ্য হল রাশিয়ার তেল ও গ্যাস থেকে উপার্জনের উপর চাপ বৃদ্ধি করে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য দেশটির আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া। বিলটির বর্তমান বিধান অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার প্রধান জ্বালানি ক্রেতাদের কাছ থেকে আমদানির ওপর 100 শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন, যার মধ্যে ভারত ও চিন সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শুল্ক কমানো বা ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও রাখবেন। এর মানে এই নয় যে ভারতের ওপর ইতোমধ্যেই 100 শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বর্তমান এই প্রক্রিয়াটি একটি সম্ভাব্য ক্ষমতা। বিলটি অবশ্যই প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে, যার পরে প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে। ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (CREA)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ভারতীয় সংস্থাগুলি 5.5 বিলিয়ন ইউরো মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছেন, যা জুনের তুলনায় 2.1 শতাংশ বেশি। ওই মাসে ভারত যে পরিমাণ রুশ জীবাশ্ম জ্বালানি কিনেছিল, তার মধ্যে 87 শতাংশই ছিল অপরিশোধিত তেল। জুন মাসে ভারত 450 কোটি ইউরো মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেল কিনেছে, যা রাশিয়ার কাছ থেকে আমদানিকৃত মোট 550 কোটি ইউরো মূল্যের জীবাশ্ম জ্বালানির 83 শতাংশ। তবে অর্থমূল্যের ক্ষেত্রে এই হিসাব প্রযোজ্য নয়। পরিমাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে, জুন মাসে অপরিশোধিত তেলের আমদানি ছিল 1 কোটি 82 লাখ (18.2 মিলিয়ন) মেট্রিক টন; এটি মে মাসের তুলনায় 16.5 শতাংশ এবং গত বছরের জুন মাসের তুলনায় 13 শতাংশ কম। তবে এই বছর অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্যের কারণে তেল আমদানির খরচ মে মাসের তুলনায় জুন মাসে 22 শতাংস কম হলেও, তা গত বছরের জুন মাসের তুলনায় 40 শতাংশ বেশি ছিল। ভারত সামগ্রিকভাবে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনলেও, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে এই প্রবণতার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। অর্থাৎ, 2026 সালের জুন মাসে ভারত 8.7 মিলিয়ন মেট্রিক টন (MMT) রুশ তেল আমদানি করেছে; এই পরিমাণটি মে মাসের তুলনায় মাত্র 1 শতাংশ কম এবং গত বছরের জুন মাসের তুলনায় 25 শতাংশ বেশি। এই কৌশলের ফলে, ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ পরিমাণগত দিক থেকে 48 শতাংশ এবং অর্থমূল্যের দিক থেকে 48.6 শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এবং বিশেষ করে মার্চ মাস থেকে প্রতি মাসেই রাশিয়ার এই অংশ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।