সিজেপি-র ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো যাচাই করতে গিয়েছিলেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুণ্ডা গ্রামের যুবক আবদুল হাফিজ ৷ অভিযোগ, তারপরেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় ৷ যে ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আবদুলের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের ৷ সেই ঘটনায় এবার আবদুল ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কালীঘাট তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার আবদুলের বাড়িতে গেলে, ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷ আবদুলকে এফআইআর ও ময়নাতদন্তের কপি নিয়ে কালীঘাটে যেতে বলেন মমতা ৷ সিজেপি সদস্য শেখ আবদুল হাফিজ দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনেও প্রথম সারিতে ছিলেন ৷ অভিযোগ, 27 জুলাই গ্রামে ফেরার পর থেকেই বিজেপির তরফে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল ৷ এরই মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টি ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান ঘোষণা করার পর, নিজের গ্রাম থেকেই কাজ শুরু করেন আবদুল হাফিজ ৷ অভিযোগ, গ্রামের স্কুলে গিয়ে বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলায় 14 অগস্ট রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা ৷ আবদুলকে মারধর করা হয় ৷ সেইসময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক ৷ অভিযোগ, তাঁকেও মারধর করা হয় ৷ যে ঘটনায় গুরুতর জখম হন মহম্মদ মাফিক ৷ পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় 51 বছরের ওই প্রৌঢ়ের ৷ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে ৷ রবিবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ অন্যায় করলে কাউকে ছাড়া হবে না ৷” তারপর এ দিন সকালে আবদুল হাফিজকে ফোন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি ৷ মমতার সঙ্গে আবদুলের কথোপকথন ইটিভি ভারতের হাতে এসেছে ৷ সেখানে মমতা বলেন, “আমি সবসময় তোমাদের পাশে আছি ৷ তোমরা আমার পরিবার ৷ কোনওরকম সমস্যা হলে আমাকে বলবে ৷”
শনিবার রাতের ঘটনায় দুষ্কৃতীরা আবদুলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ ৷ এ নিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি ৷ সেই নিয়ে মমতাকে জানালে তিনি বলেন, “ওরা তোমার ফোন নিয়ে গেছে, সেটার একটা আলাদা এফআইআর করাও ৷ আর একটা কাজ করবে ৷ তোমাদের উপরে হামলা, তোমার বাবার মৃত্যু ও ফোন হারানোর নিয়ে যে এফআইআর করিয়েছো, তার একটা কপি তুলবে ৷ সেই সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কপি নেবে ৷ সব নিয়ে 3-4 দিনের মধ্যে আমার এখানে (কালীঘাটে) চলে এসো ৷”
কথোপকথনের মাঝেই আবদুল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বাঁকুড়া জেলার পুলিশ সুপার তাঁকে ফোন করেছেন ৷ পুলিশকে দিয়ে আবদুলের ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর নিয়ে গেছেন সুপার ৷ ফোন কোথায় আছে তা জানতে ট্র্যাকিং শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ায়, তাঁকে ধন্যবাদও জানান সিজেপি-র সদস্য ৷ অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে যাওয়া তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে মমতা নির্দেশ দেন, আবদুল হাফিজকে রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের ফোন নম্বর দিতে ৷ যে কোনও প্রয়োজনে দোলা সেনকে ফোন করতে বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷
পরিবারের অভিযোগ, 14 অগস্ট তাঁদের বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছিল ৷ পরে মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি সহযোগিতায় তাঁকে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ পরদিন সকালে অর্থাৎ, 15 অগস্ট স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৷ সেখানেই সন্ধেবেলা মৃত্যু হয় মহম্মদ মাফিকের ৷

