নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে হোটেলে লিজ় হোল্ডার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ধৃতের নাম আবু জাফর। এন্টালি মেন মার্কেট এরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ম্যানেজার ও একজন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এই হোটেলের মালিক হিসেবে বীরেশ্বর মিত্রের নাম উঠে এসেছে। চলছে ওই ব্যক্তির খোঁজ। মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে দু’টোর মধ্যে মির্জা গালিব স্ট্রিটে দমকলের সদর দপ্তর থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে ছ’তলা বাড়ির তিন তলায় আগুন লাগে। সেই তলাতে ছিল হোটেল ‘শিখা ইন’। ১১০০ ফুটের ফ্ল্যাটে ঘুপচি ঘর ও শৌচালয়। ছিল না প্রশস্ত ঢোকা বেরোনোর পথ। আবাসিক বাড়িতেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রমরমিয়ে চলছিল হোটেল ব্যবসা। আগুনে ঝুঁকির বিষয়টা খতিয়ে দেখার পরে যে চিত্র সামনে এল, তাতে হোটেল কম ‘শিখা ইন’-কে জতুগৃহ বলা ভালো। সেই জতুগৃহেই মঙ্গলবার রাতে অসহায় ভাবে মৃত্যু হলো ১ শিশু-সহ নয় ব্যক্তির। তাদের মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশি। শিশু-সহ তিন জন একই পরিবারের। নিজের দেশে ফেরার আগে রাতে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে মাথা গোঁজার স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হোটেল ‘শিখা ইন’-কে। কেউ আবার সুদূর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার কাজে এসেছিলেন কলকাতায়। কেউ আবার কাজ করতেন সেখানে। জানা গিয়েছে, ওই হোটেলগুলিতে কোনও ইর্মাজেন্সি গেট ছিল না। যাতায়াতের জন্য ছিল মাত্র একটি অত্যন্ত সরু সিঁড়ি এবং সিংহভাগ ঘরেই ছিল না পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা। আগুন নেভানোর ন্যূনতম কোনও পরিকাঠামোও সেখানে ছিল না। এমনকী, বুধবার রাত পর্যন্ত হোটেল কর্তৃপক্ষ ফায়ার লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স কিছুই দেখাতে পারেননি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অগ্নিকাণ্ডের পরে আপাতত ওই বহুতলে যাবতীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

