দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘কুকীর্তি’ ফাঁস হল শিশু পাচারের ঘটনা সামনে আসার পর ৷ নির্যাতিতা নাবালিকা দীর্ঘদিন ধরে বাবার নির্যাতনের শিকার ৷ প্রথমে মেয়েকে ধর্ষণ, তারপর ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে প্রসবের ব্যবস্থা ৷ এখানেই ক্ষান্ত হয়নি বাবা, সদ্যোজাতকে শেষমেশ বিক্রি করে দেয় সে ৷ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে 8 অভিযুক্তকে ৷পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা মেয়েকে লাগাতার যৌন নির্যাতন করত বাবা । বিষয়টি যাতে কোনওভাবে লোকচক্ষুর সামনে না আসে, মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের হতে দিত না বাবা । এভাবেই দিনের পর দিন অত্যাচার চলতে থাকে । যার জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে নাবালিকা । প্রসবের সময়ে যাতে অভিযুক্ত ধরা না পড়ে, তাই ভুয়ো আধার কার্ডের ব্যবস্থাও করে ৷ সেখানে মেয়েটির বয়স বাড়িয়ে দেখানো হয় ৷ এদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্কে মেয়েটি সন্তান প্রসব করলেও আপাতত সুস্থ ৷ বিষয়টি সামনে আসে ওই সদ্যোজাতকে বিক্রি করার সময় ৷ বাবা সদ্যোজাতকে অন্য় জেলার এক দম্পতির কাছে চড়া দামে বিক্রি করে বলে অভিযোগ ৷ পুলিশের তল্লাশিতে ধরা পড়ে এই পুরো চক্রের সঙ্গে যুক্তরা ৷ ইতিমধ্যেই রায়পুর পুলিশ 8 জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে । গত পরশু, অর্থাৎ মঙ্গলবার পুলিশ 6 জনকে গ্রেফতার করে । আর গতকাল আরও দুই অভিযুক্ত ধরা পড়েছে ৷

রায়পুর পশ্চিম জোনের ডিসিপি রবিনসন গুড়িয়া এই ঘটনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন । তিনি জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্ত সদ্যোজাত কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিল । তাদের মধ্যে এক মহিলা নির্যাতিতা নাবালিকার প্রসবের জন্য ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করেছিল ৷ যে দম্পতির কাছে ওই সদ্যোজাতকে বিক্রি করা হয়েছিল, পুলিশের তল্লাশিতে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে । রাজেন্দ্র নগর পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)’র 64 নম্বর ধারা ও (বিএনএস) পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে ৷ ডিসিপি আরও জানান, ধৃতদের ইতিমধ্যেই জেরা চলছে ৷ যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হল-সদ্যোজাতকে ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলার এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল তারা। নির্যাতিতার বয়স বাড়িয়ে নকল আধার কার্ড বানিয়ে দিয়েছিল এক মহিলা ৷ যে ওই আটজনের মধ্যে হেফাজতে রয়েছে ৷ শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার পর পুলিশ তাকে যথাযথ যত্নের জন্য রায়পুরের ‘মাতৃ ছায়া’ নামক একটি সংস্থার তত্ত্বাবধানে রেখেছে । পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে ৷