banganews.net

খুচরো বাজারে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবারই ‘ট্যারিফ রেট কোটা’ (TRQ)-এর আওতায় 31 অক্টোবর পর্যন্ত 10 লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কছাড় দেবে ৷ এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য দেশে চিনির সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা । দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার বড় গ্রাহকদের অর্থাৎ যারা মাসে 10 টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন, তাদের মজুত রাখার সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ৷ তাদের ক্ষেত্রে মজুতের পরিমাণ সর্বোচ্চ 15 দিনের ব্যবহারের সমান হতে পারবে বলে সরকার জানিয়েছে ৷ ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “অপরিশোধিত চিনি আমদানির নীতি সংশোধন করা হয়েছে, যাতে ‘ট্যারিফ রেট কোটা’ (TRQ)-এর আওতায় আগামী 31 অক্টোবর পর্যন্ত 10 লক্ষ মেট্রিক টন চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা সম্ভব হয়।” চিনির দামের তীব্র বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। 2026-27 মরসুম শুরুর আগে মজুত কম থাকায় চিনির কারখানা-ভিত্তিক দর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একটি শিল্প সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সারা দেশে গড় ‘এক্স-মিল’ দর বেড়ে কুইন্টাল প্রতি 5,400-5,500 টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল 3,900 টাকা। উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, 18 অগস্ট পর্যন্ত খুচরো বাজারে চিনির দাম বছরে প্রায় 13 শতাংশ বেড়ে কেজি প্রতি 52.30 টাকায় পৌঁছেছে ৷ যা এক বছর আগে ছিল 46.34 টাকা। সাধারণত অগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে চিনির চাহিদা বেড়ে যায় ৷ কারণ এই সময়ে দেশে গণেশ চতুর্থী, জন্মাষ্টমী, দশেরা এবং দীপাবলির মতো বড় উৎসবগুলি পালিত হয়। খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী সোশাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানিয়েছেন, যেসব বড় গ্রাহক মাসে 10 টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন, তাদের 15 দিনের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে বেশি চিনি মজুত করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

খাদ্য মন্ত্রক ‘সুগার (স্টকহোল্ডিং লিমিট অফ বাল্ক কনজিউমারস) অর্ডার, 2026’ জারি করেছে। এই নির্দেশের আওতায় কনফেকশনারি বা মিষ্টি প্রস্তুতকারক, নরম পানীয় প্রস্তুতকারক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, মিষ্টি বিক্রেতা এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। খাদ্য মন্ত্রক এক্স-এর এক পোস্টে জানিয়েছে, “সরকারের এই অগ্রিম পদক্ষেপটি অবিলম্বে সব জল্পনা-কল্পনা দূর করবে এবং আগামী এক বছর ধরে ভোক্তাদের জন্য ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্যে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।” এই নির্দেশটি 1 সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং 30 নভেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর আগে 1 অগস্ট থেকে 30 নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর একটি আদেশের মাধ্যমে চিনি ব্যবসায়ীদের জন্য মজুতসীমা 30 দিনের জন্য 8 হাজার কুইন্টাল নির্ধারণ করা হয়েছিল। চিনির দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার ৷ বিশেষ করে 2026-27-এর আগে মজুত কম থাকায় মিল-গেট বা কারখানা-পর্যায়ের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।