ফের হামলায় মৃত্যু হয়েছে চার জনের। মৃতরা সকলেই নাগা উপজাতির বাসিন্দা। মায়ানমার থেকে একদল জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ওই অতর্কিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ তাংখুল নাগা লং-এর ওয়ার্কিং কমিটির। এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকায় বনধের ডাকও দিয়েছিল ওই কমিটি। ওই হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ। গত কয়েক দিন ধরেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে মণিপুর। হামলার ঘটনা ঘটেছে মণিপুরের তামেংলং জেলায়। কাংপোকপি জেলার নাগা অধ্যুষিত এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটে। গত কয়েক দিনে তামেংলং একাধিক হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭ জনের। মৃতদের মধ্যে চার জন মহিলা। সেই সঙ্গে নাগা উপজাতির এক পড়ুয়াকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। একাধিক গ্রামে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করাও হয়। কুকি জঙ্গিরা ওই হামলা চালায় বলে অভিযোগ নাগা সংগঠনের। নাগা উপজাতির বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য কেন্দ্র এবং মণিপুরের সরকারের কাছে দাবিও জানায় জয়েন্ট ট্রাইবস কাউন্সিলের ওয়ার্কিং কমিটি। এই হামলার রেশ কাটার আগেই সেখানে ফের হামলার ঘটনা। এই হামলা হয়েছে মণিপুরের কামজং জেলায়। মায়ানমারের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত পিলং গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন চার জন বলে জানিয়েছেন কামজং জেলার পুলিশ সুপার। কারা এই হামলা চালায় তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, মায়ানমারের জঙ্গিরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার, তাংখুল নাগা লং-এর ওয়ার্কিং কমিটি, বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে,বৃহস্পতিবার মায়ানমার থেকে একদল জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে পাঁচ জন গ্রামবাসীর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই হামলায় এক জন কোনও রকমে বেঁচে গিয়েছেন বলেও জানিয়েছে ওই কমিটি। এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই এলাকায় বনধের ডাকও দেয় তারা। সেই সঙ্গে এই রকমের হামলা বন্ধ করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার দাবিও জানিয়েছে নাগাদের সংগঠন এবং ওই কমিটি। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। সমাজে এই রকমের হিংসার কোনও স্থান নেই এবং তা কোনও মতেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

