এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অনিয়মের’ বিরোধিতা করে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্য়াগের দাবিতে পথে নামল রাজধানী দিল্লি । যন্তর মন্তরে জমায়েতের পর সেখান থেকে মিছিল করে এগোনোর চেষ্টা করতেই দিল্লি পুলিশের হাতে আটর হলেন যোগেন্দ্র যাদব থেকে শুরু করে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যরা । তাঁদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শুরু করে অন্যরাও আটক হয়েছেন । শুক্রবার বিকেলে ছাত্র সংগঠন আইসার সভাপতি নেহা বোরা এবং আরও কয়েকজন যন্তর মন্তরের সামনে স্লোগান দিতে শুরু করেন । ধীরে ধীরে ভিড় জমতে থাকে । এরপর এগোতে শুরু করে মিছিল । সামান্য় কিছুটা যেতেই পটেল চক মেট্রো স্টেশনের কাছে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ । পুলিশের দাবি, কোনও অনুমতি না নিয়েই মিছিল হচ্ছিল । দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিতা নারাইন জানান, বিক্ষোভকারীদের আটক করতে বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ । জমায়েত থেকে যোগেন্দ্র যাদব কটাক্ষের সুরে বলেন, “অপরাধীদের গ্রেফতার না করে পুলিশ ভোট চোরদের রক্ষা করছে । জানা গিয়েছে, যোগেন্দ্র যাদবের পাশাপাশি সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভট্টাচার্য এবং আইসার সভাপতি নেহা বোরা-সহ যাঁদের যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁদের দিল্লির বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে । বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ । তাঁর মতে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যে সমস্ত অন্যায় কাজ করেছেন তা এখন সকলে জেনে গিয়েছেন বলে সরকার আতঙ্কে ভুগছে । দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিতা নারাইন মনে করছেন, যে সমস্ত তথ্য় পাওয়া গিয়েছে তা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূলে আঘাত হেনেছে । ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল কথা হল- এখানে সকলের একটি করে ভোট আছে। এ ব্যাপারে সবাই সমান । এটাই ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল শক্তি । এই ব্যবস্থা ভেঙে গেল দেশের কোনও নাগরিকরা নিরাপদ থাকবেন না । আর তাই নিজেদের মৌলিক অধিকার বাঁচাতে, গণতান্ত্রিক অধিকারকে সুরক্ষিত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হওয়া । অন্যদিকে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে তখন তাঁর পাশে দাঁড়ালেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য । তিনি মনে করেন, জ্ঞানেশকে কমপক্ষে পদ্মভূষণে সম্মানিত করা উচিত ৷ শমীক বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে অন্ততপক্ষে পদ্মভূষণ সম্মান দেওয়া উচিত ৷ (ভোট পরিচালনায় তাঁর ভূমিকায়) পশ্চিমবঙ্গের জনতা খুশি ৷ এতদিন পরে রাজ্যে ভোটে কোনও হুমকির ঘটনা ঘটেনি, হত্যার ঘটনা ঘটেনি ৷ মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন ৷” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ সীমান্তে একটি রাজ্য ৷ রাজ্যের ভোটার তালিকায় বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম ছিল ৷ সেই নামগুলি জ্ঞানেশ কুমার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন ৷ পশ্চিমবঙ্গের জনতা এর আগে কখনও এমন নির্বাচন দেখেছেন ? পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশীর্বাদ জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে আছে ৷ আমি চাই, তাঁকে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করা হোক ৷” স্বভাবতই এই মন্তব্যের জন্য় সোশাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে শমীককে । “

