নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত অনলাইন ফর্ম ৬ বেআইনিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi)। নির্বাচন কমিশনের কোন আধিকারিক টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস সংস্থাকে এই পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সংস্থার পক্ষ থেকে কে এতে স্বাক্ষর করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, টিসিএস এই কাজ করতে কোনো চাপের মুখে পড়েছিল কি না, সে বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, যে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কমিশনাররাই নথিভুক্ত করেছেন যে অনলাইন ফর্ম ৬ বেআইনিভাবে বদলানো হয়েছে। রাহুল গান্ধির এই মন্তব্যের ঠিক একদিন আগেই বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের পক্ষ থেকে দেশের সমস্ত জেলায় যৌথ ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা এবং পাঁচটি বড় জনসভার ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের দাবি জানানোর পাশাপাশি এসআইআর এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা অনিয়মের মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে এই জোট। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এবং ১৯টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের দিকে মার্চ করবেন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের অনিয়মের বিষয়গুলি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে বিরোধী দলগুলি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাঁকে পদচ্যুত না করা পর্যন্ত তারা পিছু হটবে না। এর আগে সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও যোশি গত দশ মাসে এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার নথিবদ্ধভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল যে এই আদেশগুলি তাঁদের মতামত বা সুপারিশ ছাড়াই জারি করা হয়েছিল। এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দুই কমিশনারের তোপের মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন সাফাই দিয়েছে যে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য স্বাভাবিক ব্যাপার এবং তাদের সমস্ত আদেশই সম্পূর্ণ আইনি বৈধতা মেনে ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই জারি করা হয়েছে।

