তিন মাস ধরে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে আটকে রয়েছেন ভারতীয় মার্চেন্টে নেভির আধিকারিক । তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপের আবেদন জানালেন নৌ আধিকারিক বিনীত কিশোর মিশ্রর বাবা ললিত কিশোর মিশ্র ও স্ত্রী নেহা । প্রতিবেশী দেশে আটকে থাকা নৌ-আধিকারিক উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা । চলতি বছরের অগস্টে বিনীত কিশোরের ছ’মাসের চুক্তিভিত্তিক চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে । তারপর থেকে তিনি পাকিস্তানের করাচি বন্দরে রয়েছেন । স্বভাবতই তাঁর এই অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্ত্রী নেহা মিশ্র এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা । বিনীতদের দুটি সন্তান আছে । স্ত্রী নেহা জানান, স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে তিনি ও তাঁর শ্বশুর এখন দিল্লির একটি হোটেলে থাকছেন । তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, এলাহাবাদের কংগ্রেস সাংসদ উজ্জ্বল রমন সিং, ফুলপুরের বিজেপি সাংসদ প্রবীণ প্যাটেল এবং স্থানীয় বিধায়ক বাচস্পতির অফিসেও দরবার করেছেন । কিন্তু তাঁদের আবেদনে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি । নৌ-আধিকারিক বিনীত কিশোর মিশ্রের বাবা ললিত কিশোর মিশ্র অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক । তিনি সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে ফোনে জানান, গত তিন দিন ধরে দিল্লির বিভিন্ন অফিসে ঘুরেছেন । ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে শুরু করে বিদেশ মন্ত্রকের দফতরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছেন । কিন্তু কোনও আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি ছেলের অপেক্ষায় থাকা প্রৌঢ় ললিত কিশোর । তিনি বলেন, “আমি আজও আমার ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি । সে এখনও করাচি বন্দরেই আছে । ওখানে মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা খুব দামী । অনেক টাকা খরচ হয়ে যায় । তাই বেশিক্ষণ কথা বলতে পারিনি । ওর সঙ্গে আরও পাঁচজন ভারতীয় এবং ছ’জন ইরানের নাগরিকও রয়েছে । ওঁরা সবাই গত 17 এপ্রিল করাচিতে পৌঁছেছে ।”ললিত কিশোর জানান, তাঁর ছেলের চাকরির চুক্তি শেষ হয়েছে গত অগস্টে । তারপর থেকেই বিনীত কিশোর নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন । বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা ভারতীয় মার্চেন্ট নেভি আধিকারিকের কাতর আবেদনে কোনও কর্ণপাতই করছে না । উদ্বিগ্ন বাবা ললিত কিশোর বলেন, “আমার ছেলে সেপ্টেম্বর মাসে ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করেছিল । কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি । এখন ওই জাহাজ কোম্পানি তাঁকে টাকাও দিচ্ছে না । আর ছাড়ছেও না ।” বিনীতের স্ত্রী নেহা জানান, দীর্ঘ সময় স্বামীর অনুপস্থিতিতে দুই শিশু সন্তানকে সামলাতে গিয়ে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে । দম্পতির একটি 2 বছরের পুত্র এবং 10 মাসের কন্যা আছে । বিনীতের স্ত্রী বলেন, “আমার ছেলে প্রায়ই জানতে চায়, ওর বাবা কবে ফিরবে ? আর আমি ওকে সান্ত্বনা দিই যে, বাবা কাজে গিয়েছে । শীঘ্রই ফিরে আসবে ।”

