দেশের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি একে একে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকর করার পথে হাঁটছে । এবার অসম সরকার রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করার জন্য একটি কমিটি গঠন করল । সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, আট সদস্যদের এই কমিটি ইউসিসি নিয়ে এক মাসের মধ্যে খসড়া তৈরি করবে । এর আগে গত 14 সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, বিজেপি শাসিত 21টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) লাগু করবে এনডিএ সরকার এবং 2029 সালের আগেই তা দেশজুড়ে কার্যকর করা হবে ৷ অর্থাৎ, পরবর্তী 2029 সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই ইউিসিসি লাগু হবে ৷ গত 27 মে অসমের বিধানসভায় ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, অসম, 2026 বিল’ পাশ হয় । এই বিল অনুযায়ী রাজ্য সরকার ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে থেকে শুরু করে বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কগুলি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ আইন প্রণয়ন করবে ।
বিলটি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো হয়েছে । গত 13 অক্টোবর এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন অসমের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অজয় তিওয়ারি । স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব দেবা প্রসাদ মিশ্রকে খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে । অসম সরকার গঠিত ইউসিসি খসড়া প্রণয়নকারী কমিটিতে রয়েছেন ফিনান্স কমিশনার (স্পেশাল) এবং সচিব পার্থপ্রতিম মজুমদার, বিধানসভার সচিব গীতাঞ্জলি ডি সাইকিয়া, সংখ্যালঘু কল্যাণ ও উন্নয়ন দফতরের সচিব ফরিদা সামসুল এবং স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতরের অতিরিক্ত সচিব মৃদুলকুমার দাস । উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে । এখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে অসম তৃতীয় বিজেপি শাসিত রাজ্য হবে দেশে । মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে অসম সরকার রাজ্যে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করতে বিল এনেছে । পাশাপাশি লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলে তা সরকারের কাছে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে এই বিলের মাধ্যমে । তবে অসমে বসবাসকারী তফশিলি উপজাতিভুক্ত কোনও ব্যক্তির জন্য কার্যকর হবে না এই বিল । রাজ্যে দ্বিতীয় বা বহু বিবাহের অপরাধে ধরা পড়লে সেই ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাবাসের সাজা ভুগতে হবে । আরও বেশ কিছু কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে তাকে । ইউসিসি খসড়া প্রস্তাবে এমনই কঠোর বিধানের প্রস্তাব থাকবে বলে জানা গিয়েছে । অন্যদিকে লিভ-ইন সম্পর্ক নথিভুক্ত না-করলে তিন মাসের জেল হতে পারে ।

