দেশের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল আইডিবিআই। ক্রমে বৈভব হারাতে হারাতে সেটি এবার চলে যাচ্ছে বিদেশি সংস্থার মালিকানায়। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ওই ব্যাঙ্কের সিংহভাগ মালিকানা কানাডার এক সংস্থার কাছে বিক্রির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। প্রতিবাদে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কর্মীরা দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামছে। আগামী সপ্তাহে দু’দিনের অনশন ধর্মঘটেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার ওই আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। গত বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের পুনর্গঠন ও বিলগ্নীকরণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ ইক্যুয়িটি বিক্রি হয়ে যাবে। কানাডার বিনিয়োগকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংস লিমিটেডের হাতে ব্যাঙ্কটির মালিকানা যেতে চলেছে। কানাডার সংস্থাটি ব্যাঙ্কের ৬০ শতাংশের মালিকানার জন্য ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা দেবে। এটিকেই দেশের আর্থিক ক্ষেত্রের বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ বলেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিবাদে ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ’ আন্দোলনে নেমেছে। বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে আগামী ২ এবং ৩ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট ও অনশনের ডাক দিয়েছে ইউএফআইওই। এবার ওই সংগঠনের পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী রাহুল গান্ধীও। তিনি বলছেন, “কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ব্যাঙ্কটি গত বছর ৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে। মানুষের টাকায় যে সংস্থা তৈরি হয়েছে, সেটা মানুষের সম্পদ। সরকার সেটাকে বিক্রয়যোগ্য বলে মনে করতে পারে না।”
আইডিবিআইয়ের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরও কেন সেটা বিক্রি করা হবে, প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী দলনেতা। একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, বেসরকারিকরণ হয়ে গেলে ব্যাঙ্কে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর সংরক্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাঁরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। সব কর্মীদের উদ্দেশে রাহুলের বার্তা, “আমরা আপনাদের পাশে আছি।”

