নোটিশ দেওয়া হয়েছিল আগেই ৷ বৃহস্পতিবার সকাল হতেই ক্যানিংয়ের মৌখালিতে বুলডোজারের গর্জন ৷ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের মালিকানাধীন ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’ ভেঙে ফেলল প্রশাসন । অভিযোগ, মাতলা নদীর চর দখল করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এই ক্যাফেটি । আগে থেকেই মহকুমাশাসকের তরফে ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল । সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই আজ সকালে প্রশাসন অভিযান চালায় । অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ।ভারী যন্ত্রপাতি এবং বুলডোজার নিয়ে অভিযান শুরু হয় । একে একে ক্যাফের বিভিন্ন অংশ ভাঙা শুরু করে প্রশাসন । চকচকে সাজসজ্জায় তৈরি ক্যাফেটির কাঠামো মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে থাকে । ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং মহকুমার পুলিশ আধিকারিক, জীবনতলা থানার পুলিশ আধিকারিক এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা । সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা অশান্তি রুখতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী । সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও আংশিক নিয়ন্ত্রণ আনা হয় । স্থানীয়দের একাংশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন । তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি নির্মাণ চললেও এবার প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে । শওকত মোল্লার গ্রেফতারির পর থেকেই প্রশাসনের নজরে আসে তাঁর পরিবারের একাধিক সম্পত্তি । সেই সময়েই আলোচনায় উঠে আসে ছেলে ইমরানের মালিকানাধীন এই বিলাসবহুল ক্যাফেটেরিয়া । স্থানীয়দের কাছে ‘অরণ্যের কূলে’ নামে পরিচিত এই ক্যাফে মৌখালি সেতুর সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠে । অভিযোগ, শওকত মোল্লা বিধায়ক থাকাকালীন প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার ধারে এবং মাতলা নদীর চরের উপর এই ক্যাফে নির্মাণ করা হয়েছিল । স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যাফেটি নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি । নদীর চর এবং সেচ বিভাগের জমি দখল করে স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে । দীর্ঘদিন ধরে সমস্ত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ব্যবসা চলছিল । তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে ।ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করার পর তাঁর পরিবারের সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয় । তদন্তের সময় প্রশাসনের নজরে আসে মৌখালির এই ক্যাফের বিষয়টি । এরপরই ইমরান মোল্লাকে ক্যাফের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে মহকুমাশাসকের অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় ।প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, জমির কাগজপত্র এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখে স্পষ্ট হয় যে ক্যাফেটির কোনও বৈধ অনুমোদন নেই । সেচ বিভাগের জমি দখল করে বিশাল এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল । নদী সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্যও বিপজ্জনক বলে মনে করছে প্রশাসন ।