প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ৷ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি ৷ মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ ঢাকার হাসপাতালে নেত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় বিএনপি ৷ বয়স হয়েছিল ৮০ বছর৷ গত ২৩ নভেম্বর অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় খালেদাকে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ সেই থেকে একমাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৷ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, যকৃৎ সংক্রান্ত নানা অসুখে ভুগছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ৷ পরে তাঁর ফুসফুসেও সংক্রমণ ধরা পড়ে ৷ গত ২ ডিসেম্বর খালেদার চিকিৎসার জন্য চিন থেকে ৫ সদস্যের একটি চিকিৎসকের দল ঢাকায় পৌঁছয় ৷ এর দু’দিন পর ফের ৪ সদস্যের চিনের এক মেডিক্যাল টিম বাংলাদেশে পৌঁছয় ৷ ব্রিটেনের একটি বিশেষজ্ঞ দলও তাঁদের সঙ্গে চিকিৎসায় যোগ দেয় । কিন্তু তাঁর অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি ৷ গত ১১ ডিসেম্বর তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে স্থানান্তরিক করা হয় ৷ শনিবার মধ্যরাতের পর চিকিৎসক এজেএম জাহিদ জানান, বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ৷ রবিবার রাতেও পরিস্থিতিতে কোনও বদল আসেনি ৷ সোমবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে ৷ খালেদার মৃত্যুতে শোকবার্তা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, “ঢাকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করছি । তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা । সর্বশক্তিমান তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন । বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে । ২০১৫ সালে ঢাকায় তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করছি । আমরা আশা করি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে পরিচালিত করবে । তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক ।” এদিকে, ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে লন্ডন থেকে সপরিবারে বাংলাদেশে ফিরেছেন খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান ৷ দেশে ফিরেই মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য হাসপাতালে পৌঁছন তিনি ৷ পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে রবিবারও ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক ৷ দীর্ঘ রোগভোগের পর মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হল খালেদার ৷