রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়৷ দুই তৃতীয়াংশ আসনে জিতে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)৷ কিন্তু সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা ঠিক করতে বিজেপির তরফে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে৷ বাংলায় বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা বেছে নেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে৷ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আসন সংখ্যা 294৷ সরকার গড়ার জন্য ম্যাজিক ফিগার 148৷ কিন্তু এবার সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ছিল 147৷ কারণ, এবার ফলতা বিধানসভা আসনের ফলাফল ঘোষণা হয়নি৷ সেখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ সোমবার বাকি 293টি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হয়৷ তার মধ্যে 207টি আসনে জিতে বাংলার সরকার গঠন নিশ্চিত করে ফেলেছে বিজেপি৷ পরবর্তী প্রক্রিয়া পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন৷ 206 জন বিধায়ক বেছে নেবেন তাঁদের নেতাকে৷ সেই নেতাই হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী৷ বিজেপির তরফে প্রতিটি রাজ্যেই সরকার গঠনের আগে একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে পরিষদীয় দলের বৈঠকের জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়৷ বাংলার জন্য সেই দায়িত্ব দেওয়া হল অমিত শাহকে৷ তাঁর সহকারী হিসেবে এখানে থাকবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি৷ সাধারণত এই ধরনের বৈঠক হয় সংশ্লিষ্ট রাজ্যে৷ বলা বাহুল্য যে এবার কলকাতাতেই বাংলার বিধায়করা বসবেন তাঁদের নেতা বেছে নেওয়ার জন্য৷ ফলে এই প্রক্রিয়ার জন্য কলকাতাতে আসবেন অমিত শাহ৷ কবে তিনি আসবেন, সেই নিয়েই নয়া জল্পনা তৈরি হয়েছে৷ উল্লেখ্য, গতকাল রাতেই জানা গিয়েছিল যে আগামী শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শপথ নেবে বিজেপির সরকার৷ সেই অনুযায়ী চলতি সপ্তাহেই বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক হতে পারে৷ এদিকে বিজেপির যে প্রার্থীরা এবার ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র শুভেন্দু অধিকারী দু’টি আসনে লড়াই করেছিলেন৷ নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দু’টি আসনেই তিনি জিতেছেন৷ মঙ্গলবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিজেপির পাশে থাকার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন তিনি৷ লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিকে বিপুল সমর্থন দেওয়ার জন্য ও যশস্বী প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জির নেতৃত্বে ভরসা রাখার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’’ এর পর তাঁর সংযোজন, ‘‘এই জয় প্রত্যেক দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রবাদীর জয়, প্রত্যেক বিজেপি কার্যকর্তার জয়। বিজেপির অঙ্গীকার এক উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গড়ে তুলবো একটি সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত রাজ্য। রাজ্যবাসীর সেবা করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’’