বিহার জুড়ে অতি সম্প্রতি ভোট অধিকার যাত্রা করেছে রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদবরা। জায়গায় জায়গায় স্লোগান উঠেছে ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’। এই অবস্থায় বিহারের জন্য উপহারের ডালি সাজিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তাঁর নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি বা CCEA বিহারের মোকামা এবং মুঙ্গেরের মধ্যে চার লেনের গ্রিনফিল্ড অ্যাক্সেস-নিয়ন্ত্রিত হাইওয়ে নির্মাণের জন্য ৪,৪৪৭.৩৮ কোটি টাকা অনুমোদন করল। ৮২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি বক্সার-ভাগলপুর হাই-স্পিড করিডরের অংশ। ‘হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেল’-এ নির্মিত হবে এই রাস্তা। অর্থাৎ, এটি নির্মাণের খরচ দেবে সরকার এবং বাকি বেসরকারি অংশীদাররা এর অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করবে। নতুন মহাসড়কটি মোকামা, বড়হিয়া, লক্ষীসরাই, জামালপুর এবং মুঙ্গের-সহ বিহারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে ভাগলপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। বস্তুত এই অঞ্চলটি একটি প্রধান শিল্প কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুঙ্গেরে একটি অস্ত্র কারখানা, জামালপুরে একটি লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ এবং বেশ কয়েকটি খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ এবং গুদামজাতকরণ ইউনিট রয়েছে। ভাগলপুর রেশম শিল্পের জন্য পরিচিত। এই শহরকে একটি টেক্সটাইল এবং লজিস্টিক হাব হিসাবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। অন্য দিকে বড়হিয়া একটি খাদ্য প্যাকেজিং এবং কৃষি-গুদাম কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠছে। মহাসড়কটি হয়ে গেলে এই শিল্পকেন্দ্রগুলিপ মধ্যে দ্রুত মাল পরিবহন করা যাবে। ভ্রমণের সময় কমে মাত্র দেড় ঘণ্টায় দাঁড়াবে। কারণ এই রাস্তা দিয়ে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত গতিতে যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাস্তার প্রকল্পে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, তেমনই এই করিডোর বরাবর শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান হবে বলে আশা সরকারের। মোকামা এবং মুঙ্গেরের মধ্যে চার লেনের গ্রিনফিল্ড অ্যাক্সেস-নিয়ন্ত্রিত হাইওয়েটির পাশপাশি ভাগলপুর-দুমকা-রামপুরহাট রেললাইন ‘ডবল’ করার অনুমোদন দিয়েছে CCEA। বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত ভাগলপুর-দুমকা-রামপুরহাট রেললাইন এখনও পর্যন্ত ‘সিঙ্গল’ লাইন হিসেবেই রয়েছে। এই লাইন ‘ডাবল’ লাইনে পরিণত করা হবে। ১৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে প্রায় ৩,১৬৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে।