এবার বিহারের বক্সার কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের এক বন্দিকে জিজ্ঞাসাবাদ ! চন্দ্রনাথ রথ খুনে শুক্রবার বক্সারের জেল থেকে এক বন্দি সঞ্জয় রাইকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছে সিবিআই ৷ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক খুনে তাকে জেরা করা হবে ৷ সে আদতে উত্তরপ্রদেশের দিলদারনগরের জমনিয়ার বাসিন্দা ৷ সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করে রাজপুর থানার পুলিশ ৷ এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সহকারী জেল সুপারিনটেনডেন্ট রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং ঘটনাটি নিশ্চিত করেন ৷ তিনি বলেন, “কলকাতার এসটিএফ (STF) নয়, বরং দিল্লি সিবিআই-এর একটি দল আদালতের নির্দেশে সঞ্জয় রাইকে হেফাজতে নিয়েছে ৷ আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এই মামলাটি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ।” রাজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (SHO) নিবাস কুমারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সঞ্জয় রাইকে মাত্র 10-12 দিন আগে বক্সার-ইউপি (UP) সীমানার শায়র ঘাট থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ ৷ পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলে পাঠানো হয় ৷ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঞ্জয় রাইয়ের তথাকথিত যোগসূত্রের কথা জানতে পেরে তড়িঘড়ি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করা হয় ৷ এই গ্রেফতারি কি সঞ্জয়ের কোনও কৌশল ? সরকারি সূত্রে খবর, মনে করা হচ্ছে যে সঞ্জয় রাই সম্ভবত পুলিশের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করেছিল ৷ এর কৌশল হিসাবে মদ্যপানের অভিযোগে নিজের গ্রেফতারির ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা করেছিলেন ৷ এদিকে, এই চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বক্সার জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে তিন জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ এর আগে, গত 11 মে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ একটি বড় অভিযান চালিয়ে বিহারের বক্সার থেকে ভিকি মৌর্য এবং ময়ঙ্ক মিশ্রকে গ্রেফতার করে ৷ এছাড়া উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ‘অটল’ নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় ।রাজ্য বিধানসভার ফলাফল ঘোষণা হয় গত 4 মে ৷ এর দু’দিন পর 6 মে রাতে মধ্যমগ্রামে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির কাছে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ রথ ৷ তাঁর গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে গাড়ি এবং বাইক ৷ খুব কাছ থেকে থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পর গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের বুকে-পিঠে এবং মাথায় গুলি লাগে ৷ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷ খুনের ধরন দেখে পুলিশের অনুমান, আগে থেকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে এই খুন ঘটানো হয়েছে ।

