পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ শহিদ হওয়া ৬ জন সেনার নাম প্রকাশ করল ভারত সরকার ৷ নয়াদিল্লিতে ‘ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল’-এ তাঁদের নাম খোদাই করা থাকবে ৷ স্মৃতিসৌধের গ্রানাইটে তৈরি দেওয়ালে লেখা থাকবে এই বীর সেনাদের নাম৷ তাঁদের মধ্য়ে ৫ জন ভারতীয় সেনার এবং একজন বায়ুসেনার সার্জেন্ট ৷ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হওয়া এই সংঘাতের প্রথম দিন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন সেনা আধিকারিকরা ৷ প্রথম দিকে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দেশের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীও ৷ গত এক বছরে এই অভিযান নিয়ে একাধিক সাংবাদিক বৈঠক হয়েছে ৷ কিন্তু কোথাও এই শহিদ সেনাদের নাম প্রকাশ করেনি মোদি সরকার ৷ বিরোধীরা বারবার এই প্রশ্ন করলেও উত্তর পাওয়া যায়নি ৷ এবার ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল-এর ওয়েবসাইটে ‘রোল অফ অনার’-এর তালিকায় এই ৬ জন সেনার নাম প্রকাশ করেছে সরকার ৷ এই ছ’জন- সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুরালী নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার ৷ এই শহিদদের সম্মান জানিয়েছে ভারত সরকার ৷ রাইফেলম্যান সুনীল কুমার মরণোত্তর বীর চক্র সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে ৷ সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে মরণোত্তর বায়ু সেনা মেডেল দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে ৷ তাঁদের এই আত্মবলিদান যাতে মানুষ ভুলে না-যায়, তাই ওয়ার মেমোরিয়ালের গ্রানাইটের দেওয়ালে তাঁদের নাম খোদাই করা থাকবে ৷ ওয়েবসাইটে তাঁদের শহিদ হওয়ার তারিখ জানানো হয়েছে ৷ গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় হঠাৎ জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় 26 জনের ৷ তাঁদের মধ্যে একজন নেপালের বাসিন্দা এবং অধিকাংশই পর্যটক ছিলেন ৷ পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা গোষ্ঠী সমর্থিত দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই হামলা চালিয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায় ৷ প্রত্যেকের ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞেস করে নিরপরাধ সাধারণ নাগরিককে গুলি করে জঙ্গিরা ৷ এর পাল্টা জবাবে ৬ মে গভীর রাতে পাকিস্তানের ৯টি জায়গায় হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় বায়ু সেনা ৷ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ন’টি জঙ্গিঘাঁটি ৷ এই সংঘাত চলেছিল ১০ মে পর্যন্ত ৷ পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম ঘোষণা করেন যে ভারত ও পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয়েছে ৷ এর কিছুক্ষণ পর বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা জানান ৷ এই সংঘাত চলাকালীন প্রতিদিন নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করেছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী ৷ তাঁর সঙ্গে সেনার উচ্চপদস্থ কর্তারাও ছিলেন ৷ কিন্তু কোনও সাংবাদিক বৈঠকেই ভারতীয় সেনা-জওয়ানদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি ৷ এমনকী বছরের নানা সময়ে এবং পহেলগাঁও হামলা ও অপারেশন সিঁদুর-এর বর্ষপূর্তিতেও সাংবাদিক বৈঠক করেছেন তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা, এমনকী সদ্যপ্রাক্তন সিডিএস অনিল চৌহান ৷ সরকার এতদিন পর্যন্ত এই শহিদদের নাম সামনে আনেনি ৷


