সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজধানী দিল্লি । NEET-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই যন্তর-মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে মিছিল শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) । হাজার হাজার পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থী ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়, লাঠিচার্জ করে এবং বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে । সংগঠনের দাবি, আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ বলে । নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের দক্ষিণ দিকের যানবাহন প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। এর জেরে মধ্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংসদ ভবনের ভিতরে চলছিল অধিবেশন। উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঠিক সেই সময় সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র হাজার হাজার সমর্থক। মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের রাজধানী। আর তার কিছুক্ষণ পরেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সংসদ ভবন চত্বরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান । সরকারি সূত্র বৈঠকের কথা নিশ্চিত করলেও, কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানানো হয়নি । তবে আন্দোলনের আবহে এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে । গত 20 জুন থেকে যন্তর-মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি । সংগঠনের দাবি, NEET পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের দায় নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে । পাশাপাশি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিও তুলেছে তারা ।
সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনকে সামনে রেখে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয় । সকাল থেকেই যন্তর-মন্তরে হাজার হাজার পড়ুয়া, চাকরিপ্রার্থী এবং যুবক-যুবতী জড়ো হন । সেখান থেকে সংসদের উদ্দেশে মিছিল শুরু হতেই একাধিক জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে । কিন্তু, আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি । সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাসের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ ‘নির্মম অত্যাচার’ চালিয়েছে এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ । যদিও পুলিশের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিউ দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় । গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলির একাধিক প্রবেশপথও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে বহু যাত্রী স্টেশনের ভিতরে আটকে পড়েন ।
এদিকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানান, যাতে তিনি সংসদ অভিযানে যোগ দিতে পারেন । তাঁর দাবি, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন এবং আন্দোলনে অংশ নিতে সক্ষম । যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও রক্তের কিছু সূচক এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে ।

