পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে এবার শ্রাবণী মেলায় একগুচ্ছ সরকারি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তিনি তারকেশ্বর ধামে উপস্থিত থাকবেন। তার ঠিক আগে সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ সরকারি সহায়তার কথা জানালেন তিনি। রাস্তায় পানীয় জল থেকে শুরু করে চিকিৎসার ব্যবস্থা, এমনকী কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে জল ঢালতে পারেন, তার জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। মূলত তিনটি জায়গাকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হুগলির তারকেশ্বরের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং ভুটান সীমান্তের জয়ন্তী এলাকাতেও পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। তারকেশ্বর মন্দির চত্বর সাজানোর জন্য ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতবর্ষের বহু রাজ্যে দেখেছি আস্থার পরম্পরা বজায় রাখতে সরকার সহযোগিতা করে। এতদিন এই রাজ্য সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল ৷ শ্যাওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি 5 কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র করছে সরকার ৷ তারকেশ্বর ধামে প্রায় 15 কোটি টাকার কাজ করছি বাবা ধামকে সাজানোর জন্য। “
শ্যাওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রায় 30 কিলোমিটার পথে পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সেখানে চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিশ্রামের পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত করা হচ্ছে । পুণ্যার্থীদের উৎসাহ বাড়াতে প্রতি সোমবার আকাশপথে গোলাপ বৃষ্টির অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে সরকারি কপ্টার থেকে জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। নিজের কর্মসূচির কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “14 তারিখ তারকেশ্বর ধামে উপস্থিত হব ৷16 তারিখে কলকাতা ইসকন আমাকে আমন্ত্রণ করেছে ৷ সেখানে থাকব।
এছাড়াও, শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে তারকেশ্বরে ধর্ম সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঞ্চ তৈরি হয়েছে তারকেশ্বর মন্দিরের আদলে ৷ বৈদ্যপুরে সেবা শিবিরে মঙ্গলবার শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন করবেন শুভেন্দু । দেড় হাজার সাধু, সন্ত আসবেন এই সম্মেলনে যোগ দিতে। থাকবেন কার্তিক মহারাজ সহ উত্তরবঙ্গ বিহারের বিভিন্ন মঠের সাধু মহারাজরা। এই ধর্ম সম্মেলন ও শ্রাবণী মেলার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা তদারকি করেন ৷ তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান বলেন, “শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় উৎসব হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই মেলার জন্য বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন মুখমন্ত্রী। মূল মঞ্চের পাশেই থাকছে মহিলা ও পুরুষদের বসার বিশেষ ব্যবস্থা।”

