বিশেষ তদন্তকারী দল গ্রেপ্তার করেছে দু’জনকে । গুলাব শেখ এবং মহম্মদ খুররম । খুররমই না কি শার্প শুটার গুলাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল । তবে কেন এই খুন ? সেক্ষেত্রে উঠে আসছে প্রতিহিংসার বিষয়টিই । পিতৃহত্যার বদলা নিতেই না কি এই নৃশংস খুন । অন্তত প্রাথমিকভাবে সিআইডির ইঙ্গিত এমনই ।
বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার খুন-রহস্যের খুলছে জট! জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেই বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে সিআইডি। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরাও সঙ্গে ছিল। তার মধ্যে মহম্মদ খুররম খান ও গুলাব শেখ নামে দু’জনের বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এরপরই মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি। আর জেরার মুখে উঠে এসেছে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরনো শত্রুতার জেরেই এই খুন বলে দাবি সিআইডি-র। শার্প শুটার গুলাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল । তবে কেন এই খুন ? সেক্ষেত্রে উঠে আসছে প্রতিহিংসার বিষয়টিই। পিতৃহত্যার বদলা নিতেই না কি এই নৃশংস খুন । অন্তত প্রাথমিকভাবে সিআইডির ইঙ্গিত এমনই । ‘সুপারি কিলার’ দিয়ে খুন করানো হয়েছে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে। দক্ষ ‘শার্প শ্যুটার’ ছিল সে। যাতে করে মণীশকে একেবারেই খতম করে দেওয়া সম্ভব হয়। প্রায় লাখখানেক টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল খুনিকে। মণীশকে লক্ষ্য করে গুলি চলে নাইন এমএম পিস্তল থেকে। প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্যই হাতে এসেছে পুলিসের। তবে এই খুনের পিছনে কে বা কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সোমবার তদন্তের দায়িত্বভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। অভিযুক্ত ‘সুপারি কিলার’কে ধরতে বিশেষ দল গঠন করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। তার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। একটা ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত, গোটা ঘটনাটিই পূর্ব পরিকল্পিত। বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা বলেন, সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। বারাকপুরে শিল্পাঞ্চলে দাপুটে নেতা ছিলেন মণীশ। তিনি বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ। রবিবার রাতে টিটাগড়ে দলীয় অফিসের সামনে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান বিজেপির যুবমোর্চার এই নেতা। কিন্তু কেন তিনি খুন হলেন, এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। ইতিমধ্যে মণীশের মোবাইলের কলহিস্ট্রি বের করা হয়েছে। গত কয়েকদিন তাঁর সঙ্গে কারা কারা বেশি কথা বলেছে, তার একটি তালিকাও তৈরি করে ফেলেছেন গোয়েন্দারা। কমিশনারেট ও সিআইডি’র হাতে আসা প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বছরকয়েক আগে টিটাগড়ে একটি খুনের ঘটনা ঘটে। যাঁকে খুন করা হয় তিনি ছিলেন জামাকাপড় দোকানের মালিক। ঘটনার সঙ্গে মণীশের দলবলের যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। এমনকী, ঘটনাস্থলে মণীশ দাঁড়িয়ে ছিলেন বলেও অভিযোগ। সেই কারণে তাঁর উপর রাগ ছিল খুন হওয়া পরিবারের লোকজনের। ফলে মণীশকে খুনের ষড়যন্ত্রে ওই পরিবারের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, পুলিস দু’জনকে আটক করেছে। তাদের জেরা চলছে। অফিসাররা জানতে পেরেছেন, বিজেপি নেতাকে খুনের ছক অনেকদিন ধরেই করা হচ্ছিল। তাঁর গতিবিধির উপর নিয়মিত নজর রাখা হত। কী গাড়ি ব্যবহার করেন, কতজন দেহরক্ষী তাঁকে ঘিরে থাকে, দিনের কোন সময় কোথায় থাকেন-এ সবকিছুই নখদর্পণে ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের। ঘটনার দিন তাঁর দুই দেহরক্ষী ছুটিতে ছিলেন। সেই সুযোগে মণীশকে খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। কীভাবে? অফিসাররা জানতে পেরেছেন, শার্প শ্যুটার হিসেবে যাকে নিয়োগ করা হয়, সে এলাকার বাসিন্দা নয়। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাকে এলাকা ঘুরিয়ে দেখানো হয়। রাখা হয় একটি গোপন ডেরাতে। ঘটনার দিন মণীশকে দু’টি বাইকে করে কয়েকজন যুবক অনুসরণ করছিল। ‘মণীশ এবার এলাকায় ঢুকছে’ ইনফর্মারদের কাছ থেকে এই খবর পেয়েই দু’টি গাড়ি নিয়ে চলে আসে ভাড়াটে খুনিরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঠিক সেই সময় চায়ের দোকানের পাশ থেকেই হাজির হয় এক যুবক। সে মাটিতে পড়ে থাকা মণীশকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালাতে থাকে। তারপরেই ওই আততায়ী গাড়ির অন্যপ্রান্তে অর্থাৎ বিটি রোডের দিকে চলে যায়। পেছন থেকে একটি বাইক আসে এবং সেই বাইকে চড়ে বসে সেই আততায়ী। তারপর প্রথমে আসা বাইকটি এবং এই দ্বিতীয় বাইকে বসা মোট চারজন শূন্যে গুলি চালাতে চালাতে পালিয়ে যায় ডানলপের দিকে। এই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সিআইডির তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন আততায়ী চায়ের দোকানের সামনেই অপেক্ষায় ছিল। প্রথম দলটি এসে গুলি চালিয়ে মণীশ এবং তাঁর সঙ্গীদের হতভম্ব করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে তার কাজ সারে। তদন্তকারীদের দাবি, এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আততায়ীদের ব্যবহার করা দুটি বাইক চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ওই সূত্র ধরেই গ্রেফতার করা হয় গোলাপ শেখ নামে এক দুষ্কৃতীকে। জানা যায় এই গোটা অপারেশনের পেছনে রয়েছে টিটাগড় এলাকারই এক ব্যবসায়ী মহম্মদ খুররম। পুরনো শত্রুতার জেরে খুররম মণীশকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে বলে দাবি পুলিশের। তবে খুররম ছাড়াও এর পেছনে আরও কেউ আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। ধৃতদের বারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিন সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

