রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ, মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তবে বারুইপুর রওনা হওয়ার আগেই নবান্নে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুর কাণ্ডের তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এদিন নবান্নে সেই সিট-এর তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বারুইপুরে নারী নির্যাতনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সেখানে আরও একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পরপর এমন জোড়া অপরাধের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই জোড়া অস্বস্তির আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের নবান্নের বৈঠক এবং তৎপরবর্তী বারুইপুর সফর প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি এদিন ঠিক কী বার্তা দেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। এর আগে সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই বারুইপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন যে কোনওরকম রেয়াত করবে না, তা গতকালই স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এই ধরনের অপরাধমূলক কাজে সরকার সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অভিভাবকের সাথে হয়তো মঙ্গলবার আমার দেখা হয়ে যাবে। উনি যা যা বলবেন, আমি করব। ওখানকার যে রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরও যদি কিছু পরামর্শ থাকে তবে আমি শুনব।” একইসঙ্গে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে প্রশাসন। কোনভাবেই যে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না, তা তাঁর কথাতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নিজে বারুইপুরের পুলিশ সুপারের অফিসেও যাবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে নির্যাতিতার নিখোঁজ ডায়েরি গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তারও বিশদ মূল্যায়ন করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন। পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলে তা যে বরদাস্ত করা হবে না, সেই হুঁশিয়ারিও তিনি দিয়েছেন।