জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ বুধবার একই সঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধেও। সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে আয়োজিত চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বিধাননগর সাব ডিভিশনাল হাসপাতালের নতুন নাম হচ্ছে ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’। রাজ্যের কিংবদন্তি চিকিৎসক এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের বিরুদ্ধে একহাত নিয়ে বলেন, “আর আজকে অকপটে বলতে পারি, যেখানেই হাত দিচ্ছি সেখানেই ধ্বংস লিলা দেখতে পারছি ৷” এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিক, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিধানচন্দ্র রায়ের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে জানান, আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ও নগর পরিকাঠামো গড়ে তোলার পিছনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “20 বছর আগে থেকেই বিধানচন্দ্র রায় সম্পর্কে জানছি, তাঁকে নিয়ে পড়াশোনা করেছি। রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একসময় বলেছিলেন, ‘যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই দেখছি বিধানচন্দ্র রায় কাজ শুরু করে গিয়েছিলেন।’ আর আমি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি।” এরপরই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের স্বাস্থ্যনীতি এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্যের হাসপাতালে এই বেহাল দশা, এটা কি কাম্য ছিল ?” তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের বদলে রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মেধা এবং দক্ষতা দেশের যে কোনও প্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম। কিন্তু পূর্বতন সরকারের আমলে সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “মেধার দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ যে কোনও দেশকে টেক্কা দিতে পারে। কিন্তু আগের সরকারের আমলে যা হয়েছে, তাতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অযথা বিভাজন তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই আমরা-ওরার রাজনীতি প্রয়োজন ছিল না। কোনও ওরা-আমরা, পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে না ৷ কোনও সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ থাকবে না ৷ স্বাস্থ দফতরকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে ৷” এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এটা কাম্য ছিল ? কি অবস্থা করে রেখেছে মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, স্ব্যাস্থ ভবনের ? রোগির পাশে হাসপাতালে অন্য প্রাণীকেও শুয়ে থাকতে দেখা যেত ৷ এটা কী কাম্য ছিল ? বিদেশের বহু বড় বড় হাসপাতালে বাঙালি ডাক্তার দেখতে পাবেন ৷ যে আতঙ্ক ভয়ের পরিবেশ ছিল চিকিৎসকদের মধ্যে ৷ বিএনআস-এ ডাক্তারবাবুদের সুরক্ষা দিয়েছে ৷ ভয় কেটেছে ৷”

