রাজ্য সরকারের পাঠানো গুন্ডা দমন বিল ফিরিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। দিল্লির একটি সূত্র থেকে এমনই দাবি করা হয় । আরও দাবি করা হয়, বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই আপত্তি রয়েছে। এবং সেই কারণেই বিলটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই গোটা বিষয়টাকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিল নবান্ন। রাতে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই খবরের কোনও সত্যতা নেই। তাঁর দাবি, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছয়নি। সেটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবেচনাধীন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই বিলে ‘গুন্ডা’ বলে কোনও শব্দের উল্লেখই নেই। প্রসঙ্গত এই বিলটি নিয়ে শুক্রবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই মুখ্যমন্ত্রী জানালেন এই খবরের ভিত্তি নেই। নবান্নে স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রচারের কড়া সমালোচনা করেন। বিলে গুন্ডা শব্দের সংজ্ঞা নিয়ে যে আপত্তির কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ খণ্ডন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিলের কোথাও গুন্ডা বলে ভাষা নেই। গুন্ডা সাংবাদিকদের তৈরি করা ভাষা।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “এই বিলে কোনও ত্রুটি নেই । আমরা একদম স্পষ্ট । আমাদের এক্তিয়ারের মধ্যে থেকেই হয়েছে। আপনাদের বলে দিচ্ছি সংবিধানের সপ্তম শিডিউলের 254 ওইদিন ব্র্যাকেট টু-তে যা বলা আছে সেটি থেকেই আমরা এই বিল তৈরি করেছি । ” রাজ্যের পাঠানো বিলটি বর্তমানে ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক প্রোটোকলের কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “আমরা বিলটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠিয়েছি । আজ বিকেলে সেখানে যোগাযোগ করেছি। বিলটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছেই রয়েছে। সাধারণভাবে কোনও বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিতে হলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক হয়ে আবেদন করতে হয়।” বিলটি যে রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে ফিরে আসেনি, তা জোর দিয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথমত রাষ্ট্রপতির কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক হয়ে এই বিল পৌঁছয়নি। কান দিয়ে দেখে যাঁরা এসব করছেন, তাঁদের চোখ দিয়ে দেখার অনুরোধ করব।” কী কারণে বিলটি রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়েছিল, তারও আইনি ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কেরল ও অন্ধ্রপ্রদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমরা এখানে তিন বছর পর্যন্ত সাজার ব্যবস্থা রেখেছি । তাছাড়া গ্রেফতার হলে জামিন মিলবে না । সেই প্রস্তাবই বিলে রাখা হয়েছে। সেই জন্যই পাঠানো হয়েছে।” একইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতেও তিন বছরের জেল বলা আছে । কিন্তু জামিন যোগ্য । আমরা সুপারিশ করেছি যাতে জামিন যোগ্য করা না হয়। সেই জন্যই রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের কাছে পাঠাতে হয়েছে । প্রোটোকল মেনে । ” এই বিল নিয়ে ‘অপপ্রচারের’ নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাঁরা নিজেদেরকে গুন্ডা মনে করেন, তাঁরাই ভাবছেন গুন্ডা বিল ফিরে এল । বলছেন, রাজ্য সরকার হোঁচট খেল, চোট পেল। আসল কথা তাঁরা নিজেরাই জানেন না । এই বিলে যা বলা রয়েছে, তাতে আগামিদিনে নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না ।” গোটা প্রচারটিকে ‘ফেক’ বা ভুয়ো আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “এই খবরের কোনও ভিত্তি নেই ।” সংবাদমাধ্যম ও বিরোধীদের কটাক্ষ করে তাঁর বার্তা, “গল্পের গরু গাছে তুলে কোনও লাভ নেই। ভালো করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব স্তরে বিলটি বিবেচনাধীন রয়েছে এবং রাজ্য অনুমোদন পাবে, এ বিষয়ে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে নবান্ন।

