তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট, বিভাজন, দলত্যাগের জন্য বারবার তাঁর দিকেই আঙুল তুলেছেন বিদ্রোহীরা ৷ এবার সেই বিষয়টাকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যে অজুহাত’ বলে বুঝিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি জানান, যদি তাঁর কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল দলের থেকে দূরত্ব তৈরি করে ঋতব্রত শিবির বা NCPI-তে সামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন বিদ্রোহীরা, তাহলে তাঁরা দলে ফিরে এলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। দলত্যাগীদের উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর মতে, বিদ্রোহীদের প্রকৃত সমস্যা তাঁকে নিয়ে নয়, ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে তাঁরা শিবির বদলাচ্ছেন। অভিষেক বলেন, “মানুষ বোকা নয়। দরকার হলে আজই আসুন। আপনারা ফিরে আসুন, আমি এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি।” এর সঙ্গেই তিনি জোর দিয়ে করে বলেন, “কেউ আসবে না। ডিল হচ্ছে ও দিকে যাও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি দাও… তোমাকে বাঁচিয়ে রাখব। ইডিও ধরবে না, সিবিআই-ও ধরবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা এখন হয় পুলিশের হাতে ধৃত, নয়তো বালিশচাটা ঋতব্রত।” 2026-এর 4 মে বিধানসভা ভোটের ফলাফলে বাংলার ক্ষমতা হরায় তৃণমূল। এরপরই সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ও একদা মমতা ঘনিষ্ঠ তাবড় নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কুড়ি জন সাংসদ NCPI-তে যোগ দেন।

অন্যদিকে, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে তৈরি করেন ‘নব তৃণমূল ব্লক’। পরে একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসার প্রায় সব নেতা-নেত্রীরা দলে দলে গিয়ে যোগ দেন সেই ঋতব্রতর তৃণমূলে। এদের প্রায় সকলেই অভিযোগ একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ৷ তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজেদের দল ছাড়ার বা ঋতব্রতর সঙ্গী হওয়ার কারণ দেখিয়েছেন সকলেই ৷

অভিষেকের এই মন্তব্যের আগেই অবশ্য এই বিদ্রোহীদের দল ত্যাগের ‘আসল কারণ’ জানিয়েছিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের বিরুদ্ধে দলত্যাগীদের সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই সবই দলত্যাগীদের বাহানা। নেত্রীর ওই বার্তার তিন দিন পরে এই বার সেই ‘বিদ্রোহীদের বাহানা’ বা অজুহাত তত্ত্বকেই তুলে ধরলেন অভিষেকের। এতদিন এক তরফাভাবে বিদ্রোহীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ শনিবার বিকেলে নিজের পদত্যাগের শর্তে এবার তাঁদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ৷