২৪ ঘণ্টারও কম ব্যবধানে তৃতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন ৷ শুক্রবার মধ্যরাতে প্রকাশিত হয়েছিল দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা ৷ এরপর শনিবার রাতের দিকে প্রকাশ্যে আসে তৃতীয় অতিরিক্ত তালিকা ৷ গত সোমবার ২৩ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত একের পর এক অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ পেলেও ডিলিশন বা ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে সংশয় বা বিভ্রান্তি কোনওটাই কাটছে না ৷ ২৮ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৷ সে সময় প্রায় 60 লক্ষ নাম ছিল বিচারাধীন ৷ বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি অন্য রাজ্য থেকে আসা বিচারকদের সাহায্যে এই সমস্ত নাম ভোটার তালিকায় থাকবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে ৷ এমন 705 জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক কাজ করছেন ৷ এখনও পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি নাম নিয়ে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ কিন্তু এ ব্যাপারেও কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি ৷ কারও নাম বাদ গেলে তিনি অবশ্য অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন ৷ কিন্তু তার আগে কার নাম বাদ গিয়েছে কি না সেটা ঠিকমতো জানা দরকার ৷ তাছাড়া ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার ক্ষেত্রেও কয়েকটি প্রশ্ন থেকে গিয়েছে ৷ এসব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল তরজার সৃষ্টি হয়েছে ৷ শনিবার একাধিক নির্বাচনী জনসভা থেকে আরও একবার কমিশনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার জনসভা থেকে মমতা জানান, দিল্লি থেকে কমিশনের আধিকারিকরা বাংলায় এসে একের পর এক নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছেন ৷ তাঁদের আচরণ ‘ম্যাজিশিয়ান’দের মতো ৷ তবে বাংলার মানুষের তাঁদের সঙ্গে হওয়া এই অন্যায়ের জবাব দেবেন বলে বিশ্বাস করেন মমতা ৷ ভাষণের অন্য একটি অংশে মমতাকে বলতে শোনা যায়, “এসআইআর-ই হবে বিজেপির মৃত্যুবাণ ৷” অন্যদিকে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর সময় বিজেপি দাবি করেছিল বাংলায় বহু ভিনদেশি ভোটার আছে ৷ রোহিঙ্গা আ৷ছে ৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও তথ্য দেয়নি দেশে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা এই নিয়ামক সংস্থা ৷ শনিবার কলকাতায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করতে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ নিউটাউনের সাংবাদিক সম্মেলনে চার্জশিট পেশ করে তিনি দাবি করেন, দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলায় অবাধে অনুপ্রবেশ হচ্ছে ৷ রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাচ্ছে না ৷ কাজ করতে পারছে না বিএসএফ ৷ বাংলায় বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার 45 দিনের পর সেই নতুন রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে জমি দেবে ৷ কাঁটাতার বসবে ৷ অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে ৷ এখানেই তাঁর কাছে জানতে হওয়া বিদেশি ভোটার নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য তথ্য তিনি দেবেন কি ? মোদি মন্ত্রিসভার নম্বর টু জানান, এই তথ্য তাঁর কাছে নেই ৷ যা বলার তা কমিশন বলবে ৷ তবে সেই শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত কমিশন বলেনি, বাংলার ভোটার তালিকার সংশোধন করে কত সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাদ দেওয়া গিয়েছে ৷ এখন একাধিক অতিরিক্ত তালিকায় কার নাম আছে আর কার নেই তা নিয়েও তুমুল সংশয় তৈরি হল ৷

